৮৫ বছর বয়সে এসে জেলখানাই ঠিকানা! ৩৪ বছরের পুরনো মামলায় বৃদ্ধের করুণ পরিণতি

৩৪ বছর আগের অপরাধের মাশুল এখন ৮৫ বছর বয়সে এসে গুনছেন বৃদ্ধ
সাধারণত জীবনের পড়ন্ত বেলায় মানুষ যখন প্রার্থনায় মগ্ন থাকার কথা, ঠিক সেই সময়েই বিদেশের মাটিতে জেলহাজতের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ঠাঁই হলো এক বৃদ্ধের। শারীরিক অসুস্থতায় ন্যুব্জ, সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতাও লোপ পেয়েছে যার, সেই ৮৫ বছর বয়সী দীপ রায় ওরফে জিসা রায় এখন আইনের বেড়াজালে বন্দী। বিহারের বৈশালী জেলার একটি আদালতে এই বৃদ্ধকে নিয়ে তোলা ছবি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার অন্তিম পরিণতি
১৯৯২ সালে ঘটে যাওয়া একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চেষ্টার মামলায় দীপ রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। সেই সময়ে ওই এলাকায় একটি দম্পতির ওপর ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় মোট পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৩৪ বছরের আইনি লড়াই ও বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে বাকি চারজন অভিযুক্ত বিচারের আগেই পরলোকগমন করেছেন। শেষ পর্যন্ত জীবিত থাকা দীপ রায়কে দোষী সাব্যস্ত করেছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মনোজ কুমার তিওয়ারি। আইপিসির বিভিন্ন ধারা ও আর্মস অ্যাক্টের অধীনে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালতের নির্দেশে তৎক্ষণাৎ জিম্মায় নেওয়া হয়েছে।
অপরাধের দায় ও আইনের দীর্ঘ হাত
দীর্ঘ তিন দশক আগে দায়ের হওয়া এই মামলায় চাজর্শট জমা পড়েছিল ১৯৯৩ সালেই, তবে চূড়ান্ত রায় এল এত বছর পর। এই ঘটনাটি অপরাধের ভয়াবহতা ও আইনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবকে নতুন করে সামনে এনেছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুবসমাজের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা। তরুণ বয়সের আবেগ বা আক্রোশ থেকে করা অন্যায় যে সময়ের ব্যবধানে ম্লান হয়ে যায় না, বরং জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও ব্যক্তিকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে, এই ঘটনা তার একটি জীবন্ত দৃষ্টান্ত। অপরাধ করলে বয়সের ভার বা শারীরিক অক্ষমতা যে আইনের হাত থেকে রেহাই দেওয়ার কোনো অজুহাত হতে পারে না, তা-ই আবারও প্রমাণিত হলো। বর্তমানে আদালতের পক্ষ থেকে তার সাজার মেয়াদ ঘোষণার প্রক্রিয়া চলছে।