ভারতে আসা বিদেশিদের জন্য আরও কড়া কেন্দ্র, ভিসার নিয়মে বড় বদল!

ভারতে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের ওপর নজরদারি জোরদার এবং অভিবাসন পদ্ধতি আরও সুবিন্যস্ত করতে ভিসার নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ২০২৫ সালের অভিবাসন এবং বিদেশি নাগরিক বিধি সংশোধন করে সোমবার একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এই নতুন নিয়মের ফলে ভারতে আসা বিদেশিদের জন্য রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা আগের চেয়ে এগিয়ে আনা হয়েছে।
কঠোর নজরদারি ও রেজিস্ট্রেশনের নতুন নিয়ম
পূর্ববর্তী নিয়ম অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভারতে থাকার মেয়াদ বাড়াতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিকরা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর আরও ১৪ দিন সময় পেতেন আবেদন করার জন্য। নতুন সংশোধনীতে এই ১৪ দিনের অতিরিক্ত সময়সীমা সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে ১৮০ দিন বা তার কম সময়ের ভিসা হোল্ডারদের ভারতে অবস্থানের ১৮০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যেকোনো সময় রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যেসব বিদেশি নাগরিক এককভাবে বা বছরে মোট ১৮০ দিনের বেশি ভারতে থাকতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আবেদন করা বাধ্যতামূলক। সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত মেয়াদের বাইরে থাকার অনুমতি কেবল “জরুরি পরিস্থিতিতে” দেওয়া হবে, অন্যথায় এই সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। মূলত দেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অননুমোদিত বসবাস রুখতেই কেন্দ্রের এই কঠোর পদক্ষেপ।
বিদেশি দম্পতিদের সন্তানদের জন্য বিশেষ ছাড়
নিয়ম কঠোর করার পাশাপাশি ভারতে জন্মগ্রহণকারী নির্দিষ্ট কিছু শিশুর ক্ষেত্রে নিয়মে কিছুটা শিথিলতা এনেছে কেন্দ্র। আগের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিদেশি দম্পতির সন্তান ভারতে জন্মগ্রহণ করলে, ৩০ দিনের মধ্যে অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে তা প্রশাসনকে জানাতে হতো। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যদি বাবা-মায়ের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক হন এবং তিনি সন্তানের জন্য ভারতীয় নাগরিকত্ব বজায় রাখতে চান, তবে এই বাধ্যতামূলক তথ্য জানানোর নিয়ম আর প্রযোজ্য হবে না। তবে শিশুটি যদি পরবর্তীতে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে, তবে সেই নাগরিকত্ব অর্জনের ৩০ দিনের মধ্যে যেকোনো একজন অভিভাবককে অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করতে হবে। এছাড়া চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক কার্যপ্রণালীর কিছু বাধ্যবাধকতা হালনাগাদ করা হয়েছে এই বিজ্ঞপ্তিতে।