সিবিএসই-র নিরাপত্তা পরিকাঠামো নিয়ে সাইবার বিশেষজ্ঞের বিস্ফোরক দাবি, তুঙ্গে ডেটা সুরক্ষার বিতর্ক

কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের (সিবিএসই) দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝেই এবার বোর্ডের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে উঠল গুরুতর প্রশ্ন। সিবিএসই-র ওয়েবসাইটের সাইবার নিরাপত্তাকে ১০-এর মধ্যে শূন্য নম্বর দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন আইটি প্রফেশনাল ও সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট শ্রীকান্ত লক্ষ্মণন। গিটহাবের একটি ব্লগে এবং পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বোর্ডের ডিজিটাল পরিকাঠামোর এই কঙ্কালসার রূপটি জনসমক্ষে এনেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য ও পরীক্ষার ফলাফল চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের এই বিস্ফোরক দাবি দেশজুড়ে সিবিএসই-র বিশ্বস্ততা ও ডেটা সুরক্ষার কার্যকারিতাকে বড়সড় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
নিরাপত্তা ত্রুটি ও পরিকাঠামোগত দুর্বলতা
আইটি বিশেষজ্ঞ শ্রীকান্ত লক্ষ্মণন অভিযোগ করেছেন, সিবিএসই-র ওয়েবসাইটে সাইবার নিরাপত্তা বলতে কার্যত কিছুই নেই। শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র দেখার জন্য কোনো ধরনের আইডেন্টিটি ভেরিফিকেশন বা পরিচয় যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে যে কেউ অতি সহজে সার্ভারের ডেটা দেখতে এবং তা পরিবর্তন করতে সক্ষম। পুরো ডিজিটাল পরিকাঠামোটি অত্যন্ত অনভিজ্ঞ কোনো দলের তৈরি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। চলতি বছর প্রথমবার চালু হওয়া ‘অন স্ক্রিন মার্কিং’ বা ওএসএম (OSM) পদ্ধতিতে পরীক্ষার্থীদের খাতা স্ক্যান করে ডিজিটাল মাধ্যমে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু পুনর্মূল্যায়নের আবেদনের পর শিক্ষার্থীদের কাছে অস্পষ্ট, ঝাপসা এবং এমনকি অন্য পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র চলে যাওয়ার মতো মারাত্মক বিভ্রান্তি তৈরি হয়, যা এই প্রযুক্তির দুর্বলতাকেই প্রমাণ করে।
প্রভাব এবং বর্তমান পরিস্থিতি
এই নিরাপত্তা ত্রুটির ফলে দেশজুড়ে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফিজিক্স এবং কেমিস্ট্রি পরীক্ষায় অন্তত দুটি ক্ষেত্রে নম্বর সংশোধনের আশ্বাস দিতে বাধ্য হয়েছে সিবিএসই কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমস্যার মূল কারণ প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অভাব নয়, বরং সদিচ্ছার ঘাটতি। এই ব্যাপক বিতর্কের মুখে বোর্ড নিরাপত্তা ত্রুটির কথা স্বীকার করে নিয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে ২ জুন পুনর্মূল্যায়নের জন্য একটি নতুন পোর্টাল চালু করেছে। তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি সুরক্ষিত না করা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ডেটা চুরি ও ফলাফল জালিয়াতির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।