ব্রিটেনে জঘন্য কাণ্ড! পোষা মুরগির সঙ্গে পাশবিক নির্যাতন, ক্যামেরায় রেকর্ড করল স্ত্রী

পশুপ্রেমের আড়ালে জঘন্য বিকৃতি! পোষ্য মুরগিদের সাথে অমানবিক কর্মকাণ্ডে জেল খাটছেন দম্পতি
যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ড শহরে এক চাঞ্চল্যকর ও জঘন্য ঘটনার জেরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পেশায় মর্যদাবান হিসেবে পরিচিত রেহান বেগ নামের এক ব্যক্তি তার পোষ্য মুরগিদের ওপর ক্রমাগত যৌন নিগ্রহ চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিকৃত মানসিকতার ঘটনায় অভিযুক্তের স্ত্রীও সমানভাবে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন, কারণ এই জঘন্য কাজের ভিডিও তিনিই রেকর্ড করতেন।
ঘটনার সূত্রপাত ও আইনি পদক্ষেপ
পুলিশের তদন্তে অভিযুক্ত রেহান বেগের মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে একাধিক ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করা হয়। সেখানে দেখা যায়, অত্যন্ত অমানবিক ও বিকৃত উপায়ে তিনি প্রাণীগুলোর ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন। নিজের বাড়িতে পোষ্য হিসেবে রাখা মুরগিগুলোর ওপর এই ধরণের পাশবিক আচরণের ফলে বেশ কয়েকটি প্রাণীর মৃত্যুও হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্র্যাডফোর্ড ক্রাউন কোর্টে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর রেহান বেগকে তিন বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভিডিও ধারণে সহায়তা করার অপরাধে তার স্ত্রীকে সশ্রম কারাদণ্ডের পরিবর্তে সাসপেন্ডেড সাজা দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও মানসিক বিকৃতি
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। একদিকে যেমন প্রাণীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর আইনের দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে মনোবিদরা এই ঘটনাকে একটি গভীর ও বিপজ্জনক মানসিক বিকৃতি হিসেবে চিহ্নিত করছেন। বাইরে থেকে শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মানুষের আড়ালে এমন ভয়ংকর অপরাধের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রাণী অধিকার রক্ষাকারী সংগঠনগুলো এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে এই ধরণের অপরাধের জন্য আরও কঠোর শাস্তির বিধান করার আহ্বান জানিয়েছে। সভ্য সমাজে জেনেশুনে প্রাণীদের ওপর এমন নৃশংস নির্যাতন যে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, সেই বার্তাই এখন সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে।