‘তৃণমূলে কোনো গণতন্ত্র নেই’, দল ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে গর্জে উঠলেন জাভেদ খান

তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে বিস্ফোরক জাভেদ খান
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চরম অসন্তোষের সুর শোনা গেল প্রবীণ বিধায়ক জাভেদ খানের কণ্ঠে। দীর্ঘদিনের এই বর্ষীয়ান নেতা নিজের দলের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক সব অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বকরি ইদের দিন তাঁকে দল ও প্রশাসনের তরফে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল রেড রোডে গিয়ে নমাজ পড়ার জন্য। তবে সেই নির্দেশ অবজ্ঞা করে তিনি ব্রিগেডেই নমাজ আদায় করেছেন। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করার পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
গণতন্ত্রহীনতা নিয়ে ক্ষোভ
দলীয় নেতৃত্ব ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে চরম হতাশ জাভেদ খান সরাসরি অভিযোগ করেছেন, তৃণমূলে এখন আর কোনো গণতন্ত্র অবশিষ্ট নেই। তাঁর মতে, দলের প্রবীণ নেতাদের মতামতের কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং তাঁদের কথার যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। বকরি ইদের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এখন আর সুস্থ নয়। দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদের প্রান্তিক করে দেওয়ার এই প্রবণতা দলের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়
দলের বর্তমান নীতি ও পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে ঘোরতর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন জাভেদ খান। প্রবীণ এই নেতার সাফ কথা, তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। শীর্ষ নেতৃত্বের একগুঁয়েমি ও অগণতান্ত্রিক আচরণের কারণে দলের ভেতরে যে ক্ষোভের দানা বেঁধেছে, তা যেকোনো সময় বড় ধরনের ভাঙনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। বিধায়কের এই মন্তব্য তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের ধাক্কা দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।