ব্রিটেনে চরম অমানবিকতা, ছুরিকাহত তরুণের আকুতি উপেক্ষা করে হাতকড়া পরাল পুলিশ, মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়

ব্রিটেনের মাটিতে এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এক ভারতীয় বংশোদ্ভূতের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও আক্রান্ত তরুণকেই হাতকড়া পরায় ব্রিটিশ পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশের কাছে বারবার জীবনভিক্ষা এবং শ্বাস নিতে না পারার আকুতি জানালেও মেলেনি রেহাই। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। সম্প্রতি ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই ব্রিটেনের আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ইংল্যান্ডের সাদাম্পটনে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। মৃত তরুণের নাম হেনরি নোভাক। অভিযুক্ত হামলাকারী হলেন বিক্রম দিগওয়ার নামে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিখ যুবক। সম্প্রতি মৃতের পরিবারের অনুমতি নিয়ে ঘটনার সেই শিউরে ওঠা ভিডিও প্রকাশ করেছে ব্রিটেন পুলিশ, যা মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
ভুল তথ্যে পুলিশের বিভ্রান্তি ও গাফিলতি
তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন বিক্রম দিগওয়ার নিজেই পুলিশকে ডেকে মিথ্যা দাবি করেন যে তিনি জাতিবিদ্বেষের শিকার হয়েছেন এবং তাঁর উপর হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্রমের কথার ওপর ভিত্তি করেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা নোভাককে গ্রেপ্তার করতে উদ্যত হয়। গুরুতর আহত নোভাকের পিঠ দিয়ে তখন রক্ত ঝরছিল। তিনি বারবার পুলিশকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি নির্দোষ এবং শ্বাস নিতে পারছেন না। কিন্তু পুলিশ তাঁর শারীরিক অবস্থাকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টে হাতকড়া পরিয়ে দেয়, যার কিছুক্ষণ পরেই তাঁর মৃত্যু হয়।
তীব্র ক্ষোভ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ব্রিটেনের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ণবিদ্বেষ এবং পুলিশের চরম অপেশাদার ও অমানবিক আচরণ নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসনও। পরবর্তীতে প্রকৃত সত্য সামনে আসতেই মূল অভিযুক্ত বিক্রম দিগওয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সম্প্রতি ব্রিটেনের আদালত তাঁকে ২১ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে ব্রিটেনে পুলিশের জরুরি প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত নিয়মনীতি এবং জাতিগত সংবেদনশীলতার বিষয়ে বড়সড় সংস্কার আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।