তৃণমূলে বেনজির বিদ্রোহ, মমতাকেন্দ্রিক আনুগত্য রেখেই স্পিকারে দ্বারে ৬০ বিধায়ক!

বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার প্রকাশ্য রূপ নিল। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের পাল্টা হিসেবে বিধানসভায় বড়সড় বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন শাসকদলের ৬০ জন বিধায়ক। সদ্য বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী বিধানসভার স্পিকারের কাছে নিজেদের দাবি জানিয়ে চিঠি জমা দিয়েছেন। এই আকস্মিক পদক্ষেপে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
নেতৃত্ব বদলের লড়াই
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার, যখন প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানিয়ে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে চিঠি পাঠান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও স্পিকার কলকাতায় না থাকায় সেই চিঠি গৃহীত হয়নি। এর চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার বিধানসভায় পাল্টা ঘুঁটি চালেন দলের বিক্ষুব্ধ বিধায়করা। প্রথমে ৫০ জন বিধায়কের সই সংগ্রহের কথা জানা গেলেও, শেষ পর্যন্ত ৬০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি নিয়ে স্পিকারের ঘরে পৌঁছান ঋতব্রত ও সন্দীপন। বিক্ষুব্ধদের দাবি, বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করা হোক। একই সাথে উপ-দলনেতা হিসেবে শিউলি সাহা ও জাভেদ খানের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
কৌশলী বিদ্রোহ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিদ্রোহের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা। বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা কেউ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নন, বরং তাঁরা কেবল বিরোধী দলনেতার পদে পরিবর্তন চান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি দলনেত্রীর বিরোধিতা না করে এই কৌশলী অবস্থান আসলে দলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী বার্তা। এই ভাঙনের ফলে বিধানসভায় তৃণমূলের শক্তি যেমন হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তেমনই দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যও বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। আরও কয়েকজন বিধায়ক এই গোষ্ঠীতে যোগ দিতে পারেন বলে সূত্রের খবর, যা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।