স্মার্টফোনেই লুকিয়ে ভবিষ্যৎ পঙ্গুত্বের ঝুঁকি, কম বয়সেই বেঁকছে মেরুদণ্ড!

স্মার্টফোনেই লুকিয়ে ভবিষ্যৎ পঙ্গুত্বের ঝুঁকি, কম বয়সেই বেঁকছে মেরুদণ্ড!

স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও ডিজিটাল স্ক্রিনে দীর্ঘক্ষণ মগ্ন থাকার মাশুল গুনছে নতুন প্রজন্ম। গরমের ছুটির অবসর কিংবা দৈনন্দিন বিনোদনের হাত ধরে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে নিঃশব্দে থাবা বসাচ্ছে এক মারাত্মক শারীরিক সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় মাথা নিচু করে মোবাইল বা ট্যাবের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে দ্রুত বাড়ছে ‘টেক্সট নেক’ সিনড্রোম, যা অকালেই মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট করে দিচ্ছে।

ভয়াবহ ‘টেক্সট নেক’ ও মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ

মোবাইল বা ট্যাব ব্যবহারের সময় অজান্তেই মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে রাখার অভ্যাসকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘টেক্সট নেক’ বলা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষের মাথার ওজন প্রায় ১০ থেকে ১২ পাউন্ড হলেও, মাথা নিচের দিকে ঝুঁকলে ঘাড়ের উপর সেই ওজনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, স্মার্টফোন দেখার সময় মাথা অতিরিক্ত নিচু করলে ঘাড়কে প্রায় ৬০ পাউন্ড পর্যন্ত বাড়তি চাপ বহন করতে হতে পারে। এর ফলে একসময় যে হাড় ও পেশির ক্ষয়জনিত সমস্যা মধ্যবয়সে দেখা যেত, তা এখন গ্রাস করছে কম বয়সিদের।

শারীরিক প্রভাব ও আগামীর সংকট

শিশু ও কিশোরদের শরীর বৃদ্ধির এই সংবেদনশীল সময়ে দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিতে বসার কারণে ঘাড়ে ব্যথা, কাঁধ ঝুঁকে যাওয়া এবং পিঠে তীব্র অস্বস্তি দেখা দিচ্ছে। এই অভ্যাসের প্রভাব শুধু মেরুদণ্ডেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং ফুসফুসের শ্বাসপ্রশ্বাসের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত করছে। এর ফলে কমছে মনোযোগের ক্ষমতা এবং ব্যাহত হচ্ছে ঘুমের মান। ছুটির দিনগুলোতে মাঠের খেলাধুলা বাদ দিয়ে বিছানায় বা সোফায় কুঁজো হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনে ডুবে থাকা এই বিপদকে আরও ত্বরান্বিত করছে। ঘন ঘন ঘাড়ে ব্যথা, মাথাব্যথা বা শরীর কুঁজো হয়ে যাওয়া এই সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ। চিকিৎসকদের মতে, এখনই স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ এবং চোখের সমতলে ফোন ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বড়সড় শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *