কার মাথায় উঠবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তাজ, ২০২৬ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের জটিল সমীকরণ

কার মাথায় উঠবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তাজ, ২০২৬ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের জটিল সমীকরণ

ফুটবলবিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ট্রফি জয়ের পাশাপাশি সমান আকর্ষণ থাকে গোল্ডেন বুটের লড়াই নিয়ে। চার বছর পরপর এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি কে নিজের ঝুলিতে পুরবেন, তা নিয়ে ইতিমিধ্যেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ২০২২ সালে ফ্রান্স রানার্সআপ হলেও ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট ছিনিয়ে নিয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। এবারও তিনি অন্যতম প্রধান দাবিদার। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, শুধু সেরা স্ট্রাইকার হওয়াই যথেষ্ট নয়, এই খেতাব জিততে গেলে মেলাতে হয় অনেক জটিল সমীকরণ।

বয়সের অঙ্ক ও অভিজ্ঞতার লড়াই

বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোল্ডেন বুটজয়ীদের গড় বয়স সাধারণত ২৪ বছর ৭ মাস। ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সে এই পুরস্কার হাতে তোলার নজির রয়েছে মাত্র একটি—১৯৯৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার ডাভর শুকের। এই পরিসংখ্যান কিছুটা হলেও হ্যারি কেন (৩২), লিওনেল মেসি (৩৮) কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর (৪১) মতো তারকাদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। তবে মেসি বা রোনাল্ডোর মতো কিংবদন্তিদের ক্ষেত্রে রেকর্ড সবসময় শেষ কথা বলে না।

অন্যদিকে, বয়সের এই সুবিধা পুরোদমে কাজে লাগাতে প্রস্তুত কিলিয়ান এমবাপে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, মাইকেল ওলিসে কিংবা স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। টুর্নামেন্টের ফাইনালের ঠিক আগে ১৯ বছরে পা দিতে যাওয়া ইয়ামালের সামনে সুযোগ থাকছে ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোল্ডেন বুটজয়ী হওয়ার।

দলের গভীরতা ও অ্যাসিস্টের গুরুত্ব

সেরা গোলদাতা হতে গেলে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি দলকেও টুর্নামেন্টে অনেক দূর যেতে হয়। গ্রুপ পর্বে প্রচুর গোল করার পর যদি কোনো দল শেষ ষোলোতেই বিদায় নেয়, তবে গোল্ডেন বুটের সম্ভাবনা কমে যায়। ২০১৮ সালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটেছিল। ফলে এবার ফ্রান্স, আর্জেন্তিনা, ইংল্যান্ড, স্পেন কিংবা পর্তুগালের মতো দলগুলোর স্ট্রাইকাররা বাড়তি সুবিধা পাবেন, কারণ দল হিসেবে তাদের শেষ পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া গোলের সংখ্যা সমান হলে অ্যাসিস্টের হিসাব বড় ভূমিকা রাখে, যেমনটা ২০১০ সালে বেশি অ্যাসিস্ট থাকার কারণে ডেভিড ভিয়া বা ফোরলানকে টপকে টমাস মুলার পুরস্কারটি জিতেছিলেন।

শীর্ষ দাবিদার ও ডার্ক হর্সদের প্রস্তুতি

বর্তমান ছন্দে থাকা কিলিয়ান এমবাপে বরাবরের মতোই তালিকার শীর্ষে। ক্লাব মরসুমে ৫৪ গোল করা হ্যারি কেন ইংল্যান্ডকে শেষ চারে নিয়ে যেতে পারলে বড় প্রতিযোগী হয়ে উঠবেন। নিজের শেষ বিশ্বকাপে স্পটলাইটে থাকবেন লিওনেল মেসিও। এছাড়া বাছাইপর্বে ৮ ম্যাচে ১৬ গোল করা নরওয়ের আর্লিং হালান্ডের ভাগ্য নির্ভর করছে তাঁর দলের অগ্রগতির ওপর। পাশাপাশি লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও এই দৌড়ে বড় নাম।

চমক দেখাতে পারেন স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবাল, যাঁকে বল জোগান দেবেন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস। এছাড়া সুইডেনের আলেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর ইয়োকেরেস এবং বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু টুর্নামেন্টের ‘কালো ঘোড়া’ হয়ে উঠতে পারেন। শেষ পর্যন্ত ক্লাব মরসুমের ভালো ফর্ম এবং দলের দীর্ঘস্থায়ী যাত্রার সমীকরণ যার পক্ষে যাবে, তার মাথাতেই উঠবে এবারের সর্বোচ্চ গোলদাতার তাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *