পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে সন্তান? বকাঝকা করার আগে পরীক্ষা করুন অ্যাডিনয়েড

পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে সন্তান? বকাঝকা করার আগে পরীক্ষা করুন অ্যাডিনয়েড

সন্তান ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না বা পড়াশোনার সময় ঝিমিয়ে পড়ছে—এমন সমস্যায় অনেক অভিভাবকই শিশুদের বকাঝকা করে থাকেন। তবে সাম্প্রতিক চিকিৎসাবিজ্ঞান জানাচ্ছে, এই অমনোযোগিতার পেছনে সবসময় অলসতা নয়, বরং ‘অ্যাডিনয়েড’ নামক একটি শারীরিক সমস্যা দায়ী হতে পারে। নাকের পেছনে অবস্থিত এই লিম্ফ গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থিটি অতিরিক্ত ফুলে গেলে শিশুর স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যাহত হয়, যা পরোক্ষভাবে তার মেধা ও পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অ্যাডিনয়েড গ্রন্থিটি স্ফীত হলে শিশুর নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শিশুরা বাধ্য হয়ে মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে তাদের ঘুমের ওপর। রাতে একটানা নাক ডাকা কিংবা ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বাস আটকে যাওয়ার (স্লিপ অ্যাপনিয়া) কারণে শিশুরা গভীর ঘুম থেকে বঞ্চিত হয়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মস্তিষ্কে ও শরীরে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। ফলে সকাল থেকেই তাদের শরীরে আলস্য ও মাথাব্যথা দেখা দেয় এবং ক্লাসে তারা প্রচণ্ড ক্লান্তিবোধ করে ও ঝিমিয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনের অক্সিজেনের এই ঘাটতি শিশুদের স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয়, মেজাজ খিটখিটে করে তোলে এবং আচরণে হাইপারঅ্যাকটিভিটি তৈরি করে, যার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার মাধ্যমে।

লক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

শিশুর এই শারীরিক সমস্যাটি চিহ্নিত করার কিছু স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে। সব সময় মুখ খুলে শ্বাস নেওয়া বা ঘুমানো, একটানা নাক বন্ধ থাকা, সর্দি-কাশি, কথা বলার সময় নাকে নাকে শব্দ হওয়া এবং খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া এর অন্যতম লক্ষণ। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘদিন এই সমস্যার চিকিৎসা না করালে শিশুর মুখের স্বাভাবিক গঠনও বদলে যেতে পারে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘অ্যাডিনয়েড ফেস’ বলা হয়। এর ফলে শিশুর মুখাবয়ব লম্বাটে হয়ে যায় এবং মুখ সবসময় খোলা থাকে।

সমাধানের উপায়

চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের নাক ডাকা কিংবা মুখ হাঁ করে ঘুমানো একেবারেই স্বাভাবিক বিষয় নয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করতে পারলে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক ওষুধ ও নেজাল স্প্রে ব্যবহারের মাধ্যমেই অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করে এই সমস্যা নিরাময় সম্ভব। কেবল সমস্যা অত্যন্ত গুরুতর রূপ নিলে, যেমন তীব্র শ্বাসকষ্ট বা কানে শোনার সমস্যা তৈরি হলে এবং তা শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠায় বাধা দিলে ‘অ্যাডিনয়েডেক্টমি’ নামক একটি সহজ অপারেশনের মাধ্যমে এই গ্রন্থিটি অপসারণ করা হয়। সন্তানের পড়ালেখার মান ও সুস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এমন লক্ষণ দেখামাত্রই দ্রুত ইএনটি (ENT) বিশেষজ্ঞ বা শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *