সংসদে যাওয়ার প্রথম সুযোগ হাতছাড়া করে কংগ্রেসের সঙ্গে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখলেন থলপতি বিজয়

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব সৌজন্যের নজির গড়লেন ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে) সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয়। রাজ্যসভায় প্রথমবার নিজের দলের প্রতিনিধি পাঠানোর নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া করে সেই আসনটি তিনি জোটসঙ্গী কংগ্রেসকে ছেড়ে দিয়েছেন। আগামী ১৮ জুন তামিলনাড়ুর শূন্য হওয়া একটি রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচনে নিজের দলের প্রার্থী না দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক মহল ‘বন্ধুত্বের উপহার’ হিসেবেই দেখছে।
এআইএডিএমকে-র এক রাজ্যসভা সাংসদ পদত্যাগ করায় এই আসনটি ফাঁকা হয়েছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর গঠিত বিজয়ের দলের কাছে এটিই ছিল দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় পা রাখার প্রথম সুযোগ। কিন্তু জোটের শর্ত এবং কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিয়ে বিজয় সেই সুযোগ হেলায় হারালেন।
আসন ত্যাগের নেপথ্য কারণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ত্যাগের পেছনে রয়েছে দুই দলের মধ্যকার সুনির্দিষ্ট ক্ষমতার চুক্তি। কংগ্রেস আগেই বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিল, যার বিনিময়ে তামিলনাড়ু মন্ত্রিসভায় স্থান এবং সব স্তরের নির্বাচনে জোটের শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়। সম্প্রতি প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম বিজয়ের সঙ্গে দেখা করে সেই শর্তের কথা স্মরণ করালে মুখ্যমন্ত্রী আসনটি ছাড়তে সম্মত হন। ফলে, এই আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী হতে চলেছেন রাহুল-বিজয় বন্ধুত্বের অন্যতম সূত্রধর প্রবীণ চক্রবর্তী।
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে অনিশ্চয়তা
কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করলেও এই সিদ্ধান্তের কারণে বিজয়কে একটি তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক মাশুল গুনতে হচ্ছে। আগামী ৮ জুন বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সেই বৈঠকে টিভিকে-র ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ, বৈঠকে আমন্ত্রিত হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সংশ্লিষ্ট দলের ন্যূনতম একজন সাংসদ থাকতে হবে। রাজ্যসভার এই আসনটি ছেড়ে দেওয়ার ফলে টিভিকে আপাতত সেই শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলো।