বিদ্রোহী তৃণমূল নেতাদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধের পক্ষে সওয়াল স্বপন দাশগুপ্তের, ‘ভুয়ো বন্ধুদের’ নিয়ে তুমুল সতর্কতা গেরুয়া শিবিরে

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন ডামাডোল শুরু হয়েছে। দলের অন্দরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিদ্রোহ, যার জেরে একপ্রকার নেতৃত্বহীন সঙ্কটে পড়েছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির অন্দরেই নতুন এক সতর্কবার্তা জারি করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান নেতা স্বপন দাশগুপ্ত। তৃণমূলের এই মহাসঙ্কটের সুযোগ নিয়ে যে সমস্ত দলত্যাগী নেতারা এখন বিজেপিতে আশ্রয় খুঁজছেন, তাঁদের দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ এবং ক্ষমতার হাতবদল
রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর। তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পরপরই দলের ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ক দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যা শাসক শিবিরের অন্দরে বড়সড় ফাটল স্পষ্ট করে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে রাশ আলগা হয়েছে এবং বিদ্রোহীরা তাঁকে কেবল ‘পরামর্শদাতা’ হিসেবে থাকার আবেদন জানিয়েছেন। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই আখরুজ্জামানকে মুখ্য সচেতক এবং জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন ও শিউলি সাহাকে বিধানসভায় উপনেতা হিসেবে মনোনীত করে সমান্তরাল শক্তি প্রদর্শনের পথে হেঁটেছে।
আদর্শ রক্ষায় অনড় স্বপন, দুর্নীতির সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া বার্তা
তৃণমূলের এই নজিরবিহীন বিভাজনের আবহে স্বপন দাশগুপ্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রতি তাঁর বিন্দুমাত্র সহানুভূতি নেই, কারণ এটি তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই ফসল। তবে দলবদলু নেতাদের জন্য বিজেপি যাতে কোনোভাবেই ‘রাজনৈতিক পুনর্বাসনের মঞ্চ’ হয়ে না ওঠে, সেই বিষয়ে তিনি দলের কর্মীদের কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, যথাযথ স্ক্রিনিং বা যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রাক্তন তৃণমূল নেতাদের স্থান দিলে তাঁদের সঙ্গে জড়িত সহিংসতা, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শনের অপসংস্কৃতিও বিজেপির রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করতে পারে।
দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে সমাজমাধ্যমে তিনি সাফ জানিয়েছেন, যারা আজ নিজেদের অতীতের সমস্ত পাপ ধুয়ে ফেলতে বিজেপির ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে, সেই সমস্ত ‘ভুয়ো বন্ধুদের’ থেকে দলকে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। রাজ্যে বিজেপির বিপুল জয় এলেও, দলের মূল আদর্শ ও নীতির সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই আপস করা চলবে না বলে মনে করছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বপন দাশগুপ্তের এই অবস্থান আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অভ্যন্তরীণ শুদ্ধিকরণ এবং সুবিধাবাদী দলবদলুদের প্রবেশ রুখতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।