প্রাইভেট টিউশন করলেই কড়া ব্যবস্থা, সরকারি শিক্ষকদের চরম হুঁশিয়ারি দিল বিকাশ ভবন

প্রাইভেট টিউশন করলেই কড়া ব্যবস্থা, সরকারি শিক্ষকদের চরম হুঁশিয়ারি দিল বিকাশ ভবন

সরকারি বা সরকার অনুমোদিত স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন রুখতে এবার বেনজিরভাবে কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর। রাইট টু এডুকেশন (আরটিই) আইন এবং কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যে সমস্ত শিক্ষকরা এখনও রমরমিয়ে গৃহশিক্ষকতা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর আইনি পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে সমস্ত জেলা স্কুল পরিদর্শকদের (ডিআই) কড়া নির্দেশিকা পাঠাল বিকাশ ভবন।

বিকাশ ভবন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) থেকে এই মর্মে একটি অত্যন্ত গুরুতর নোটিশ পাঠানো হয়েছে রাজ্য সরকারকে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারি স্কুলের একদল শিক্ষক শিক্ষাধিকার আইন ও আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেআইনিভাবে প্রাইভেট টিউশন করে চলেছেন। অনেক শিক্ষকই নিজের স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তাঁদের কাছে টিউশন পড়ার জন্য। এমনকি যারা টিউশন পড়ে না, তাঁদের পরীক্ষার খাতায় কম নম্বর দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বা মার্কশিটে প্রভাব খাটিয়ে শোষণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে জানানো হয়েছে। এর ফলে যেমন সাধারণ ও পেশাদার গৃহশিক্ষকদের রুটিরুজিতে টান পড়ছে, তেমনই শিক্ষাধিকার আইনের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে।

কড়া আইনি অবস্থান ও নজরদারি

বিকাশ ভবনের অ্যাডমিন সেকশন থেকে জারি করা এই নির্দেশিকায় আইনি অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ২০০৯ সালের কেন্দ্রীয় আরটিই আইনের ২৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কর্মরত কোনও শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে কোনও টিউশন বা শিক্ষকতা সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। এছাড়া ২০১১ এবং ২০১৮ সালের রাজ্য শিক্ষা দফতরের বিজ্ঞপ্তিতেও পরিষ্কার বলা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত লাভের জন্য কোনও শিক্ষকই প্রাইভেট টিউশন করতে পারবেন না। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি কোনও ‘রেমেডিয়াল কোচিং’ বা অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করে, তবে সেখানে শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করতে পারবেন।

রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর (অ্যাডমিন) এই নির্দেশিকাটি রাজ্যের সমস্ত জেলা স্কুল পরিদর্শকদের (মাধ্যমিক ও প্রাথমিক) পাঠিয়েছেন। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জেলা স্তরে এই ধরনের কোনও অভিযোগ জমা পড়লে বা কোনও শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইন ভাঙার খবর পাওয়া গেলে, অবিলম্বে তা অনুসন্ধান করে দেখতে হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কড়া পদক্ষেপ করতে হবে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপে রাজ্য সরকার এই বিষয়ে যে বাড়তি সক্রিয়তা দেখাল, তাতে গৃহশিক্ষকতা করা সরকারি শিক্ষকদের ওপর এবার বড়সড় কোপ পড়তে চলেছে। স্কুল স্তরে এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে একদিকে যেমন শ্রেণীকক্ষের পড়াশোনায় শিক্ষকরা বেশি মনোযোগী হবেন, অন্যদিকে সাধারণ ও পেশাদার গৃহশিক্ষকদের কাজের ক্ষেত্র আরও সুরক্ষিত হবে। এই নির্দেশিকার প্রতিলিপি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং উচ্চশিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকেও পাঠানো হয়েছে, যা এই পদক্ষেপের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *