বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ দিচ্ছে রাজ্য, টাকা পাবেন মৃত কর্মীদের পরিবারও

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পর এবার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জন্য বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ (ডিয়ারনেস রিলিফ বা DR) দেওয়া শুরু করল নবান্ন। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়কালের যে ডিআর বকেয়া ছিল, এবার তা অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও তাঁদের পরিবার পেতে শুরু করেছেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের লক্ষাধিক পেনশনভোগী ও তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিনের আর্থিক বকেয়া হাত পেতে চলেছেন, যা বর্তমান বাজারে তাঁদের বড়সড় স্বস্তি দেবে।
জটিলতা এড়াতে নতুন গাইডলাইন
গত ২৯ মে ডিআর সংক্রান্ত এই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেছে নবান্ন। সরকারি পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, বকেয়া অর্থ বিতরণের প্রক্রিয়া চলাকালীন বহু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পেনশনভোগী বা কর্মী ইতিমধ্যেই প্রয়াত হয়েছেন। এর ফলে টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। এই সমস্যা দূর করতেই একটি নতুন নির্দেশিকা বা গাইডলাইন চালু করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও কর্মী বা পেনশনভোগীর মৃত্যু হলে তাঁর বকেয়া ডিআর পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু নিয়ম কার্যকর হবে। যদি সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরে মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনির নাম আগে থেকেই নথিভুক্ত থাকে, তবে বকেয়া অর্থ সেই মনোনীত ব্যক্তিকেই দেওয়া হবে। আবার বর্তমান পারিবারিক পেনশনভোগী এবং মনোনীত ব্যক্তি যদি একই জন হন, তবে বকেয়া টাকা সরাসরি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, দফতরে মনোনীত ব্যক্তির কোনও তথ্য না থাকলে মৃতের আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে এবং সমস্ত নথি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করার পরই টাকা প্রদান করা হবে। প্রশাসনের এই দূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে মৃত কর্মীদের পরিবারগুলি আইনি জটিলতা ছাড়াই সহজে তাঁদের প্রাপ্য টাকা পেয়ে যাবেন।
কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ প্রদান শুরু
অবসরপ্রাপ্তদের ডিআর দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতাও (ডিএ) মেটানো শুরু করেছে রাজ্য সরকার। গত শুক্রবার থেকেই বকেয়া ডিএ-র টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। আপাতত ২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে শুরু করে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া ডিএ সরকারি কর্মচারীদের দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা এই বিপুল অর্থ একযোগে দেওয়া শুরু হওয়ায় রাজ্য সরকারি কর্মী মহলে খুশির হাওয়া দেখা দিয়েছে।