বিদায় নিলেন শতায়ু স্বাধীনতা সংগ্রামী নারায়ণ বসু, শোকস্তব্ধ বাংলার সংবাদ মাধ্যম!

বিদায় নিলেন শতায়ু স্বাধীনতা সংগ্রামী নারায়ণ বসু, শোকস্তব্ধ বাংলার সংবাদ মাধ্যম!

বাংলার সংবাদ জগৎ ও সমাজসেবার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটল। প্রয়াত হলেন ‘সংবাদ প্রতিদিন’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে সল্টলেকে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৯ বছর। আগামী অক্টোবরেই তাঁর ১০০ বছরে পদার্পণ করার কথা ছিল। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণেই তাঁর এই জীবনাবসান। রাতেই নিমতলা শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তাঁর প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংবাদ প্রতিদিন পরিবার সহ বাংলার সুধী সমাজে।

একটি বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান

আজীবন গান্ধীবাদী আদর্শে বিশ্বাসী নারায়ণ বসু যুবা বয়সেই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। নদিয়ার চাকদহের বাসিন্দা নারায়ণবাবু পরবর্তীকালে সেখানকার পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সমাজ সংস্কার ও শিক্ষাবিস্তারে তাঁর অবদান ছিল অতুলনীয়। তিনি চাকদহের বাপুজি বিদ্যামন্দির (বালক ও বালিকা) প্রতিষ্ঠা করেন এবং দীর্ঘ সময় এর চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব সামলান। এছাড়াও ব্যারাকপুরের বিখ্যাত গান্ধী স্মারক সংগ্রহালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে তাঁর অন্যতম ভূমিকা ছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতি তাঁর অনুরাগ ছিল দীর্ঘদিনের, যার প্রমাণ মেলে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ও সম্পাদিত ‘ভারত কথা’ পত্রিকার মাধ্যমে।

সংবাদ জগতে অপূরণীয় ক্ষতি ও প্রভাব

১৯৯২ সালের ৯ আগস্ট ‘সংবাদ প্রতিদিন’ পত্রিকার জন্মলগ্ন থেকেই নারায়ণ বসু প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা হিসেবে যুক্ত ছিলেন। সুদীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সংবাদপত্রটিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে অনন্য নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণ কেবল একটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকহীনতা নয়, বরং বাংলার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও সমাজসেবামূলক ধারায় এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করল। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে আধুনিক গণমাধ্যমের রূপান্তর—দুই যুগের সেতু বন্ধনকারী এই ব্যক্তিত্বের চলে যাওয়া সমসাময়িক ইতিহাসের এক অপূরণীয় ক্ষতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *