কর্পোরেট জগতেও এবার ধর্মান্তরের থাবা, টিসিএসের পর উইপ্রো ঘিরে তোলপাড় মহারাষ্ট্র

মহারাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ধর্মান্তরের অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দেশের প্রথম সারির তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টিসিএসের (টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস) পর এবার আর এক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান উইপ্রোর বিরুদ্ধেও কর্মীকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার চেষ্টার অভিযোগ সামনে এসেছে। পুণের উইপ্রো অফিসের এক প্রাক্তন মহিলা কর্মী তাঁর উচ্চপদস্থ কর্তাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় হেনস্তা ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।
লাগাতার মানসিক হেনস্তা ও পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ
পুলিশে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, উইপ্রোর ওই প্রাক্তন মহিলা কর্মীকে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কটাক্ষ ও হেনস্তা করছিলেন অফিসের কয়েকজন উচ্চপদস্থ সহকর্মী। তাঁকে বারবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে এবং নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় ওই কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার এবং কর্মক্ষমতার মূল্যায়ন বা পারফরম্যান্স রিভিউ খারাপ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত প্রবল মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। প্রথমে সংস্থার অভ্যন্তরীণ স্তরে অভিযোগ জানিয়ে কোনো সমাধান না মেলায় তিনি পুণে পুলিশের দ্বারস্থ হন। এই ঘটনা প্রসঙ্গে উইপ্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংস্থায় কোনো ধরনের অন্যায় আচরণ বরখাস্ত করা হবে না এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নেপথ্যে কর্পোরেট জেহাদের ছায়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার মাত্র এক মাস আগে নাসিকের টিসিএস অফিসেও প্রায় একই ধরনের বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছিল। সেখানে ম্যানেজার নিদা খানসহ বেশ কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে ‘কর্পোরেট জেহাদ’ চালানো, যৌন ও মানসিক নির্যাতন এবং হিন্দু কর্মীদের জোর করে আমিষ খাবার খাওয়ানোর মতো অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের নামী তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলোর অন্দরে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও ধর্মনিরপেক্ষ পরিবেশকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এর ফলে কর্পোরেট সেক্টরে কর্মীদের মানসিক সুরক্ষার বিষয়টি যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনই সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক (ইনক্লুসিভ) নীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এই প্রবণতা বজায় থাকলে তা আগামীদিনে পেশাদার কাজের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।