রাজধানীতে ফের হাড়হিম হত্যাকাণ্ড, নিজের ফ্ল্যাটে মিলল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙালি অধ্যাপিকার রক্তাক্ত দেহ

রাজধানী দিল্লির বুকে আবারও এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এল। পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভের একটি ফ্ল্যাট থেকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের বাঙালি অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের (৪২) রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ দশ বছর ধরে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত থাকা এই মেধাবী অধ্যাপিকার এমন আকস্মিক ও নৃশংস পরিণতিতে দিল্লির শিক্ষা মহলসহ সাধারণ মানুষের মনে গভীর চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তে খুনের ধরন ও চুরির অসঙ্গতি
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, দেবস্মিতাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। তাঁর মাথায় কোনও ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের ক্ষতচিহ্ন মিলেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ডাকাতির কোনও উদ্দেশ্য ছিল না বলেই অনুমান করা হচ্ছে। কারণ, ফ্ল্যাটের ভেতরের কোনও মূল্যবান জিনিসপত্র বা আলমারি ভাঙা হয়নি, এমনকি মৃতার শরীরের গহনাও অক্ষত রয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, পরিচিত বা পূর্বশত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে, যেখানে অপরাধী প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়।
পারিবারিক টানাপোড়েন ও সম্ভাব্য প্রভাব
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, দেবস্মিতা ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। তাঁর স্বামী বেঙ্গালুরুতে থাকেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া চলছিল। পুলিশ এই পারিবারিক বিবাদ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিকটিকে খুনের অন্যতম সম্ভাব্য কারণ হিসেবে খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনার ফলে দিল্লির জনবহুল আবাসন এলাকাগুলিতে একক বসবাসকারী নারীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। বিশেষ করে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিষ্ঠিত অধ্যাপিকাও যদি নিজের ফ্ল্যাটে সুরক্ষিত না থাকেন, তবে কর্মজীবী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কতটা তৎপর, তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।