টানা দুই সপ্তাহ পতনের মুখে শেয়ার বাজার, ২৩,৪০০-এর নিচে নামল নিফটি

টানা দুই সপ্তাহ পতনের মুখে শেয়ার বাজার, ২৩,৪০০-এর নিচে নামল নিফটি

অস্থিরতার মধ্য দিয়ে পথ চলে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেও সামান্য নিম্নমুখী হয়ে বন্ধ হলো দেশের শেয়ার বাজার। শুক্রবার মেটাল এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের দুর্বলতায় ভর করে দরপতনের ধারা বজায় ছিল। এদিন বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স ১১৭ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ৭৪,২৪৩-এ নেমে আসে। একই সঙ্গে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক নিফটি ৫০ পয়েন্ট কমে ২৩,৩৬৭-তে থিতু হয়েছে, যা মনস্তাত্ত্বিক স্তর ২৩,৪০০-এর নিচে। এই পতনের জেরে চলতি সপ্তাহে সেনসেক্স এবং নিফটি উভয় সূচকই ০.৫%-এর বেশি লোকসান রেকর্ড করল, যা টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো বাজারের মন্দা ভাবকে স্পষ্ট করেছে।

মেটাল ও আইটির ধাক্কায় ধস, ব্যতিক্রমী ব্যাংকিং খাত

এবারের বাজার পতনের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল মেটাল এবং আইটি খাতের দুর্বলতা। বিশেষ করে নিফটি মেটাল সূচকটি বাজারের সবচেয়ে খারাপ পারফর্মিং সেক্টর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যেখানে হিন্দুস্তান জিঙ্কের শেয়ারের দর এক ধাক্কায় ৬%-এর বেশি কমেছে। এছাড়া শীর্ষ লোকসানকারী স্টকগুলির মধ্যে ছিল হিন্ডালকো, উইপ্রো, ট্রেন্ট, কোল ইন্ডিয়া এবং টিসিএস। ক্যাপিটাল মার্কেটস, এফএমসিজি এবং রিয়েলটি খাতও চলতি সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে, যার ফলে মিডক্যাপ সূচকটি ১%-এর বেশি হ্রাস পেয়ে ৬০,৭৫৫-তে নেমে আসে।

তবে সামগ্রিক বাজারের এই মন্দা প্রবণতার বিপরীতে গিয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ব্যাংকিং খাত। নিফটি ব্যাংক সূচক ১৮৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫৪,৪৯৬-এ পৌঁছেছে, যা টানা চতুর্থ সেশনের মতো লাভের ধারা বজায় রাখল।

মিশ্র প্রবণতায় স্বতন্ত্র স্টক

বাজারের এমন নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু নির্দিষ্ট শেয়ারে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। গত তিনটি সেশনে প্রায় ১৯% র‍্যালির পর শুক্রবারও জি এন্টারটেইনমেন্টের শেয়ারের দাম আরও ৭% বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি জ্যোতি সিএনসি অটোমেশনের শেয়ার বেড়েছে ৬.৭৪%। এছাড়া হিন্দুস্তান ইউনিলিভার লিমিটেড, আদানি পোর্টস, বাজাজ ফিন্যান্স এবং অ্যাক্সিস ব্যাংকের শেয়ারের দাম ১.৫% থেকে ২% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে সূচককে বড় পতনের হাত থেকে রক্ষা করেছে। বিপরীতে ওকহার্ডের শেয়ারের দাম ৬.৭৯% হ্রাস পেয়েছে এবং ভারতী এয়ারটেলের দরপতন ঘটেছে।

বাজারের সম্ভাব্য প্রভাব

টানা দুই সপ্তাহ ধরে সূচকের এই নিম্নমুখী প্রবণতা স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা সতর্কতা তৈরি করতে পারে। আইটি ও মেটালের মতো বড় খাতের টানা পতন বাজারের সামগ্রিক মনোভাবকে প্রভাবিত করলেও, ব্যাংকিং খাতের ধারাবাহিক উত্থান বাজারকে একটি বড়সড় বিপর্যয় থেকে ধরে রেখেছে। এনএসই-এর উত্থান-পতন অনুপাত ১:১ থাকায় বাজারের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য এখনও বজায় রয়েছে, যা আগামী সপ্তাহে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *