২৮ বছরের একনিষ্ঠ অধ্যায়ের সমাপ্তি, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়লেন সুব্রত বক্সী!

২৮ বছরের একনিষ্ঠ অধ্যায়ের সমাপ্তি, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়লেন সুব্রত বক্সী!

দীর্ঘ ২৮ বছরের এক নিরবচ্ছিন্ন যাত্রার অবসান ঘটল। অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি পেলেন সুব্রত বক্সী, দলের অন্দরে যিনি সর্বজনবিদিত ‘বক্সীদা’ নামে। শুক্রবার কালীঘাটে দলের জাতীয় কার্যকরী কমিটির বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এই বিশ্বস্ত সঙ্গীর অব্যাহতি মঞ্জুর করেন। ১৯৯৮ সালে দলের জন্মলগ্ন থেকে যে ব্যক্তিটি রাজ্য সভাপতির পদের সমার্থক হয়ে উঠেছিলেন, তাঁর এই বিদায়ে তৃণমূলের ইতিহাসে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

অব্যাহতির নেপথ্য কারণ

ছাত্র পরিষদ থেকে রাজনীতি শুরু করা সুব্রত বক্সী ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে ব্যাঙ্কের স্থায়ী চাকরি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালেই তিনি এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু দলনেত্রীর আপত্তিতে সেবার তা সম্ভব হয়নি। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর তিনি শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও রাজনীতি থেকে অবসরের জোরাল দাবি ওঠে। মূলত শারীরিক অসুস্থতা এবং পারিবারিক স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করেই অবশেষে তাঁর এই দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরতির সিদ্ধান্ত দলনেত্রী মেনে নিয়েছেন। তবে রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়লেও দলের জাতীয় সহ-সভাপতি পদে তিনি বহাল থাকছেন।

দলের অন্দরে সম্ভাব্য প্রভাব

সুব্রত বক্সীর মতো একজন প্রবীণ ও একনিষ্ঠ নেতার পদত্যাগ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিকভাবে এক অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে গদিচ্যুত হওয়ার পর দল বর্তমানে বিরোধী আসনে, পাশাপাশি দলের অন্দরেও ‘আসল তৃণমূল’ নিয়ে বিতর্ক ও অন্তর্দ্বন্দ্বের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমন টালমাটাল সময়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ‘পার্মানেন্ট প্রেসিডেন্ট’-এর প্রস্থান দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় একটি তাৎপর্যপূর্ণ শূন্যতা তৈরি করতে পারে। নতুন রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দলের এই ক্রান্তিলগ্নে সংগঠনকে নতুন করে সাজানো এবং কর্মীদের মনোবল ফিরিয়ে আনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *