১০০ তো শুধুই একটি সংখ্যা! ডলারের নিরিখে টাকার রেকর্ড পতনেও আতঙ্কিত নয় কেন্দ্র

মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার দাম দ্রুত কমছে, যা ইতিমধ্যেই ৯৬.২০ টাকার ঘরে পৌঁছে গিয়েছে। টাকার দাম ১০০ ছোঁবে কি না, তা নিয়ে অর্থনীতি মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হলেও কেন্দ্রীয় সরকার এই পতন নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নয়। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শমিকা রবির মতে, ১০০ কেবলই একটি সংখ্যা, এটি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট বিনিময় হার ধরে রাখার চেয়ে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ সঙ্কটের ফলে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক অভিঘাত সামাল দেওয়া অনেক বেশি জরুরি।
বাজার নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম হস্তক্ষেপ নয়
বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি এবং টাকার দাম কমার মূল কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ধাক্কাকেই দায়ী করেছেন শমিকা। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী হয়ে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উল্লেখ্য, ভারতের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৮৮ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় অর্ধেকই বিদেশ থেকে আসে। এই পরিস্থিতিতে টাকার পতন ঠেকাতে বাজারে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করলে উল্টে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়তে পারে এবং অর্থনীতিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই বাজারকে তার স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেওয়াই এখন শ্রেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংযম ও বিকল্প পথেই সমাধানের দিশা
এই আন্তর্জাতিক সঙ্কটের মোকাবিলায় সরকার বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ব্যবহার করছে। পাশাপাশি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য ও জ্বালানি চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো, বিদেশ সফর এড়ানো এবং বাড়ি থেকে কাজের সংস্কৃতির মতো সংযমী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। আর্থিক উপদেষ্টাদের দাবি, বর্তমান চাপের পুরোটাই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি থেকে সৃষ্ট, ভারতের অভ্যন্তরীণ নীতিতে কোনো ত্রুটি নেই এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উচ্চহার আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।