আমেরিকা থেকে ফিরেছেন হাজারো ভারতীয়, বাংলাদেশিদের পুশব্যাক চলবে জানাল কেন্দ্র!

ভারত থেকে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। একইসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে গত এক বছরে এক হাজারের বেশি ভারতীয়কে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলেও সরকার নিশ্চিত করেছে। বেআইনি অভিবাসন রুখতে এবং অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে ভারত ও অন্যান্য দেশের এই কঠোর পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
আমেরিকা থেকে ভারতীয়দের প্রত্যাবর্তন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সেদেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর কাজ দ্রুতগতিতে শুরু হয়। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত মোট তিন দফায় বিমানে করে ১০৭৬ জন অবৈধ ভারতীয়কে আমেরিকা থেকে দেশে ফেরানো হয়েছে। এছাড়া বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ২০২৫ সালে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩৭৭৬ জন ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যেতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে ভারত সরকার।
সীমান্তে উত্তেজনা ও পুশব্যাক বিতর্ক
অন্যদিকে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের পুশব্যাক বা ফেরত পাঠানোকে কেন্দ্র করে গত প্রায় কুড়ি দিন ধরে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও নওগাঁ সীমান্তে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি এই প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ায় প্রায় ৬০ জন মানুষ বর্তমানে নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকা পড়েছেন। বিজিবি-র দাবি, নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তারা কাউকে গ্রহণ করবে না। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, তিন হাজারের বেশি অনুপ্রবেশকারীর নথিপত্র ঢাকার বিবেচনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকলেও বাংলাদেশের দিক থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।
প্রথমে কিছু পরিবারকে বাংলাদেশ গ্রহণ করলেও আচমকা অবস্থান বদলে বিজিবি বাধা দেওয়া শুরু করে। এই টানাপোড়েনের জেরে সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে সংঘর্ষের মতো চরম পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত এই জটিল পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে চলতি সপ্তাহেই বিএসএফ এবং বিজিবি-র ডিজি পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।