‘জানতাম বলেই বিরোধিতা করেছিলাম!’ স্বরূপ গ্রেফতার হতেই নীরবতা ভাঙলেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য

কলকাতা, ৬ জুন ২০২৬: ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম দক্ষ অভিনেতা ও পরিচালক অনির্বাণ ভট্টাচার্য। দীর্ঘ দুই বছর ধরে টলিপাড়ায় চলা একনায়কতন্ত্র এবং অন্যায়ভাবে নিষিদ্ধ (ব্যান) থাকার পর, স্বরূপ বিশ্বাসের পতন টলিউডে এক বড়সড় স্বস্তির বাতাস নিয়ে এসেছে। এই গ্রেফতারির পর অনির্বাণ স্পষ্ট জানিয়েছেন, দুর্নীতির এই রূপ তাঁদের আগে থেকেই জানা ছিল এবং সেই কারণেই তাঁরা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই এবং নির্বাসনের দিনগুলি
দীর্ঘদিন ধরেই ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি ও অরাজকতার অভিযোগ উঠছিল। টলিপাড়ায় তৈরি হয়েছিল এক চরম একাধিপত্য, যার শিকার হতে হয়েছিল বহু সাধারণ কলাকুশলী ও সহকারী পরিচালককে। ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর দাপটে কাজ হারিয়ে অনেকেই বাধ্য হয়েছিলেন মাছ বিক্রি বা অটো চালানোর মতো পেশা বেছে নিতে। ফেডারেশনের কিছু নীতির বিরোধিতা করে ডিরেক্টর্স গিল্ডের সাথে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করার পর অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে কার্যত টলিপাড়া থেকে বয়কট করা হয়। ২০২৫ সালে ‘রঘু ডাকাত’ ছবির পর থেকে দীর্ঘ দুই বছর তাঁকে আর বড়পর্দায় দেখা যায়নি। অন্য পরিচালকেরা ফেডারেশনের সঙ্গে আপোষ করলেও, অনির্বাণ নিজের নীতিতে অনড় থেকে নীরবে তাঁর বিদ্রোহ চালিয়ে যান।
টলিপাড়ায় নতুন ভোরের ইঙ্গিত ও অনির্বাণের প্রত্যাবর্তন
স্বরূপ বিশ্বাসের এই গ্রেফতারি টলিউডের ‘ব্যান কালচার’ বা বয়কট সংস্কৃতির অবসান ঘটাবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। অভিনেতা দেব বরাবরই এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরব ছিলেন এবং চলতি বছরের শুরুতে অনির্বাণের হয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টাও করেছিলেন। অবশেষে এই আইনি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে টলিপাড়ার সাধারণ টেকনিশিয়ান ও শিল্পীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটতে চলেছে। অন্যদিকে, সমস্ত বাধা কাটিয়ে অনির্বাণ ভট্টাচার্য আবারও স্বমহিমায় রূপালি পর্দায় ফিরছেন। দেবেরই পরিচালনায় আগামী ছবি ‘দেশু ৭’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে, যা টলিউডে এক নতুন ও মুক্ত কর্মপরিবেশের ইঙ্গিত দিচ্ছে।