ডিম হামলার পর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চাওয়ার খবর উড়িয়ে দিলেন অভিষেক!

ডিম হামলার পর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চাওয়ার খবর উড়িয়ে দিলেন অভিষেক!

সোনারপুরে ডিম ও পাথর হামলার ঘটনার পর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চেয়েছেন বলে যে খবর রটেছিল, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেন তিনি নিজেই। শনিবার সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে এই গুঞ্জনকে অসত্য বলে দাবি করেছেন এই সাংসদ। তাঁর ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যখন জোর চর্চা চলছে, ঠিক তখনই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অভিষেক।

ভুয়ো প্রচার বনাম সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা

সামাজিক মাধ্যমের বিবৃতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, গত মাসের ৩০ তারিখে তাঁর উপর হামলার পর গত সাত দিনে তিনি কোনও ধরনের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেননি। তাঁর মতে, এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি রাজ্য এবং কেন্দ্র উভয় সরকারের নজরদারির মধ্যেই ঘটেছে, তাই এর জবাবদিহি দুই পক্ষকেই করতে হবে। নিজের নিরাপত্তার চেয়ে রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বিগত এক মাসে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক নারী নির্যাতন ও অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, যার সঠিক বিচার মেলেনি। ফলে ব্যক্তি নিরাপত্তার চেয়ে সাধারণ মানুষের সুরক্ষাই এখন প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। ভুয়ো তথ্য না ছড়িয়ে সত্য অনুসন্ধানের আহ্বান জানান তিনি।

হামলার কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিষেকের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। এরপরই সোনারপুরে দলের এক মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তীব্র জনরোষের মুখে পড়েন তিনি। সেখানে তাঁর ওপর চড়াও হওয়া, জামা ছিঁড়ে দেওয়া এবং ডিম-পাথর ছোড়ার ঘটনাটি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার কঙ্কালসার রূপটিকেই সামনে এনেছে।

এই ঘটনার জেরে একদিকে যেমন বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে অভিষেকের এই অনমনীয় অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। নিজের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা না চেয়ে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার দাবিকে সামনে রেখে অভিষেক আসলে জনমানসের সহানুভূতি আদায়ের কৌশল নিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং জবাবদিহির লড়াই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *