রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে শিল্প, রাইটার্সে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মুখোমুখি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে শিল্প, রাইটার্সে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মুখোমুখি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

টালিগঞ্জ স্টুডিয়োপাড়ার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন করে সামনে আনলেন অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত। রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের আবহে তিনি স্মরণ করলেন সেই সময়কে, যখন স্টুডিয়ো বিক্রির আশঙ্কা গ্রাস করেছিল টালিগঞ্জকে। সেই সংকটময় মুহূর্তে রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে শিল্প ও শিল্পীদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

শিল্পের প্রয়োজনে রাজনীতির ঊর্ধ্বে

যিশুর স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, যখন স্টুডিয়ো বিক্রির প্রতিবাদে শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা পথে নেমেছিলেন, তখন আন্দোলনের ভরকেন্দ্র ছিল রাইটার্স বিল্ডিং। সেই উত্তাল সময়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও, শিল্পের স্বার্থে তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয়কে সরিয়ে রেখে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হন। এই ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ শুধু প্রশাসনের সঙ্গে শিল্পীদের বোঝাপড়াই তৈরি করেনি, বরং স্টুডিয়ো বিক্রির সিদ্ধান্ত বাতিলের পথও প্রশস্ত করেছিল।

বর্তমান সময়ের নিরিখে প্রাসঙ্গিক বার্তা

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে যিশু সেনগুপ্তের এই স্মৃতিচারণ এক বিশেষ বার্তা বহন করে। তাঁর মতে, লাল, নীল, সবুজ বা হলুদ রঙের রাজনৈতিক বিভাজন ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকাই শ্রেয়। কাজের ক্ষেত্রে বা শিল্পচর্চার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় যেন কোনোভাবেই অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায়। একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয় তাঁর কাজেই নিহিত থাকে। শিল্পের মঞ্চ যে কোনো প্রকার রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং সৃজনশীলতাই যে শেষ কথা, সৌমিত্র ও বুদ্ধদেবের সেই সৌজন্যমূলক লড়াই আজ যেন নতুন করে শিখিয়ে দিয়ে গেল শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতার পাঠ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *