দুপুর গড়াতেই নামল রাতের আঁধার, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টিতে তোলপাড় কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ!

দুপুর গড়াতেই নামল রাতের আঁধার, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টিতে তোলপাড় কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ!

গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র দহনজ্বালা এবং দমবন্ধ করা ভ্যাপসা গরমের পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টির দেখা মিলল মহানগরে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস মিলিয়েই শনিবার দুপুর গড়ানোর পর কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে আকস্মিক আবহাওয়ার বদল লক্ষ্য করা গিয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানসহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঘন কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যাওয়ার পাশাপাশি মুহুর্মুহু বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এই বৃষ্টি সাময়িক স্বস্তি দিলেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা অস্বস্তি পুরোপুরি কাটছে না।

টুইন ঘূর্ণাবর্তের দাপট ও বজ্রপাতের আশঙ্কা

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই আকস্মিক দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে জোড়া ঘূর্ণাবর্ত। উত্তরপ্রদেশ ও উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের উপর অবস্থান করা দুটি ঘূর্ণাবর্তের জেরে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করছে, যার ফলেই এই ঝড়-বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের সতর্কতা অনুযায়ী, রাতের দিকে কলকাতা, হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা ও দুই মেদিনীপুরের প্রায় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ এলাকায় বজ্রঝড়ের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। বজ্রপাতের প্রবল আশঙ্কার কারণে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষকে খোলা আকাশের নীচে না থেকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হুগলি, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা ও মৌসুমী বায়ুর অগ্রগতি

দক্ষিণবঙ্গে যখন প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তখন উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যেই তীব্র দাপট দেখাতে শুরু করেছে প্রাক-বর্ষার আবহাওয়া। গত শুক্রবার রাত থেকেই উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় দফায় দফায় বৃষ্টি চলছে। আবহাওয়া দপ্তরের লাল সতর্কতা অনুযায়ী, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে আগামী কয়েকদিন ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। লাগাতার এই বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা প্রায় ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে মনোরম আবহাওয়া বজায় থাকবে। তবে মালদা ও দুই দিনাজপুরে তুলনামূলক কম বৃষ্টি হবে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ভারতের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করে গোয়া ও মহারাষ্ট্রের দিকে এগোলেও, পশ্চিমবঙ্গে তা কবে প্রবেশ করবে সেই নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আগামী কয়েকদিন রাজ্যজুড়ে এই প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের দাপট বজায় থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *