বকেয়া অর্থ ও নতুন বরাদ্দ আদায়ে এবার দিল্লির দরবারে পশ্চিমবঙ্গ

বকেয়া অর্থ ও নতুন বরাদ্দ আদায়ে এবার দিল্লির দরবারে পশ্চিমবঙ্গ

কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নামকরণে ‘পিএম’ (প্রধানমন্ত্রী) শব্দ যুক্ত করার বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের টানাপোড়েন চলছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি মেনে না নেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের বহু প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থ আটকে যায়, যার ফলে প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছিল রাজ্য। তবে ক্ষমতার সাম্প্রতিক পালাবদলের পর রাজ্যের স্কুলশিক্ষার খোলনলচে বদলাতে এবং আটকে থাকা অর্থ উদ্ধারে নতুন করে উদ্যোগী হয়েছে নবান্ন। আগামী ১২ জুন দিল্লিতে সমগ্র শিক্ষা মিশন নিয়ে সব রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের যে বৈঠক হতে চলেছে, তাতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

আর্থিক ক্ষতি রুখতে নতুন রূপরেখা

বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, আগামী এক বছরের জন্য স্কুলের সার্বিক উন্নয়ন ও পরিকাঠামো সম্বলিত একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এই খসড়া প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করতে রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে স্কুলশিক্ষা দফতরের কর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘এগ্‌জ়িকিউটিভ কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন। আগামী ১২ জুনের বৈঠকে দিল্লির দরবারে এই রূপরেখাই পেশ করবে রাজ্য প্রতিনিধি দল।

প্রস্তাবের মূল দিক ও প্রভাব

রাজ্যের তৈরি করা এই নতুন প্রস্তাবে স্কুলের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন, কম্পোজ়িট গ্র্যান্ট, মিড ডে মিল এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বকেয়া টাকা আদায়ের বিষয়েও কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সমগ্র শিক্ষা মিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর ৬০ শতাংশ খরচ দেয় কেন্দ্র এবং বাকি ৪০ শতাংশ বহন করতে হয় রাজ্যকে। ফলে নতুন বরাদ্দের সাথে সাথে রাজ্যের ওপর যে বাড়তি ৪০ শতাংশ আর্থিক বোঝা চাপবে, তা সামাল দিতে ইতিমধ্যে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বেহিসাবি খরচে রাশ টানার নির্দেশ দিয়েছে বিকাশ ভবন।

এই বৈঠকের সফলতার ওপর রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করছে। প্রতিটি ব্লকে দুটি করে উন্নতমানের ‘পিএমশ্রী’ মডেল স্কুল তৈরির পাশাপাশি সাধারণ স্কুলগুলোর পরিকাঠামো যাতে সমানভাবে উন্নত করা যায়, সেই দাবিই এখন মূল অগ্রাধিকার পাচ্ছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বকেয়া মেটানোর মৌখিক আশ্বাস মিললেও, শেষ পর্যন্ত কোন কোন প্রকল্প মঞ্জুর করা হবে তা ১২ জুনের বৈঠকের পরেই স্পষ্ট হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *