লাইনের বদলে ট্রেনের নিচেই হাওয়া হয়ে যাচ্ছে বর্জ্য, জানুন বায়ো টয়লেটের নেপথ্য রহস্য!

দূরপাল্লার সফর হোক বা কম দূরত্ব, যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে ভারতীয় রেলের প্রতিটি কামরাতেই শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে একটা সময় ছিল, যখন ট্রেনের এই শৌচাগারগুলিই পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে বড়সড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। খোলা জায়গায় মলত্যাগ আইনত নিষিদ্ধ হলেও, ট্রেনের শৌচাগার থেকে বর্জ্য পদার্থ সরাসরি গিয়ে পড়ত রেললাইনে। ফলে চারপাশ যেমন নোংরা হতো, তেমনই পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতো। বিশেষ করে ট্রেন যখন স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকত, তখন পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিকর হয়ে উঠত। আর এই কারণেই যাত্রীদের বারবার অনুরোধ করা হতো, ট্রেন স্টেশনে থামলে যেন কেউ টয়লেট ব্যবহার না করেন।
কন্ট্রোল ডিসচার্জ সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা
এই সমস্যার প্রাথমিক সমাধান হিসেবে রেল কর্তৃপক্ষ একসময় নিয়ে আসে ‘কন্ট্রোল ডিসচার্জ সিস্টেম’। এই প্রযুক্তির নিয়ম ছিল, ট্রেন যতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে বা কম গতিতে চলবে, ততক্ষণ টয়লেটের বর্জ্য আটকে রাখা হবে। ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার বা তার বেশি হলেই তবেই সেই বর্জ্য লাইনে গিয়ে পড়ত। এই ব্যবস্থায় স্টেশন চত্বর সাময়িকভাবে পরিষ্কার রাখা সম্ভব হলেও, রেললাইনের নোংরা হওয়া কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। উপরন্তু রেললাইনের ওপর ক্রমাগত এই বর্জ্য পড়ার কারণে রেললাইনের পাতেরও মারাত্মক ক্ষতি হতো, যা রেলের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছিল।
ডিআরডিও-র বায়ো টয়লেট ও স্থায়ী সমাধান
অবশেষে এই স্থায়ী এবং জটিল সমস্যার এক দুর্দান্ত সমাধান সূত্র খুঁজে বের করে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও। ভারতীয় রেল ডিআরডিও-র সহযোগিতায় ট্রেনগুলিতে আধুনিক ‘বায়ো টয়লেট’ বা পরিবেশ-বান্ধব শৌচাগার স্থাপন করার কাজ শুরু করে। এই নতুন ব্যবস্থায় মানুষের বর্জ্য সরাসরি লাইনে না পড়ে ট্রেনের নিচে থাকা একটি বিশেষ চেম্বারে গিয়ে জমা হয়। সেখানে বিশেষ ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে বর্জ্য পদার্থকে জল এবং গ্যাসে রূপান্তরিত করা হয়।
ভারতীয় রেলের এই অভিনব উদ্যোগের ফলে ট্রেন লাইনে আর কোনও নোংরা পড়ে না এবং পরিবেশও সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত থাকে। এর ফলে যেমন দেশের স্টেশন ও রেললাইনগুলি এখন অনেক বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মরিচা মুক্ত থাকছে, তেমনই যাত্রীদের সফরও আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ও স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে।