সরকারি জমি উদ্ধারের নাম করে বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হলো মসজিদ

উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে মুস্তফা কাদরি মসজিদ উচ্ছেদ ও ভাঙার ঘটনাটি বর্তমানে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
সম্ভলে মসজিদ ভাঙার ঘটনা: জমি বিতর্ক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
জমির মালিকানা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলায় মুস্তফা কাদরি মসজিদে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই ঘটনার প্রধান দিকগুলি হলো:
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
- প্রশাসনের দাবি: প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে করা রাজস্ব জরিপে এই ১২০ বর্গমিটার জমিটিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি মালিকানাধীন এই জমিটিকে কোনো বৈধ নথি ছাড়াই ‘ওয়াকফ’ সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল।
- আইনি প্রক্রিয়া: এই অভিযোগের ভিত্তিতে মসজিদ কমিটির ৭ জন সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। গত ২১ এপ্রিল তহসিলদারের আদালত উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়, যা পরবর্তীকালে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতেও বহাল রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশ রাজস্ব আইনের ৬৭ ধারা অনুযায়ী শনিবার বুলডোজার দিয়ে মসজিদটি ভাঙার কাজ শুরু হয়।
উচ্ছেদ অভিযান:
শনিবার এই অভিযানে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অঙ্কিত খান্ডেলওয়াল, পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই এবং অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে প্রচুর পুলিশ ও রাজস্ব বিভাগের কর্মীরা মোতায়েন ছিলেন।
মসজিদ কমিটির প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় বিতর্ক:
- মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে প্রশাসনের দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে খারিজ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি একটি ৫০০-৬০০ বছরের পুরনো ধর্মীয় স্থাপনা যা ঐতিহ্যের অংশ। তারা আদালতের মাধ্যমে এই উচ্ছেদ পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।
- প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্যের ‘ল্যান্ড ব্যাংক’ উদ্যোগের আওতায় সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
এই উচ্ছেদ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের দাবি আইন অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে, অন্যদিকে মসজিদ কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।