‘সমুদ্র মন্থন’-এ বড় সাফল্য: আন্দামান সাগরে মিলল প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডার

‘সমুদ্র মন্থন’-এ বড় সাফল্য: আন্দামান সাগরে মিলল প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডার

ভারতের ‘সমুদ্র মন্থন মিশন’-এর অধীনে আন্দামান সাগরে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডারের খোঁজ পাওয়া গেছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এই সাফল্যের কথা ঘোষণা করেছেন।

আন্দামানে প্রাকৃতিক গ্যাস আবিষ্কার: মূল দিকসমূহ

  • সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দু: অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড (OIL) আন্দামান উপকূলের পূর্ব দিকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে, সমুদ্রের ৩৫৫ মিটার গভীরে ‘বিজয়াপুরম-৩’ অনুসন্ধান কূপে এই গ্যাস ভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছে।
  • মিশনের গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বাধীনতা দিবসে ঘোষিত ‘সমুদ্র মন্থন মিশন’ বা জাতীয় গভীর সমুদ্র অনুসন্ধান মিশনের অধীনে এই খননকার্য চালানো হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই আবিষ্কার ভারতের বিদেশনির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।
  • ক্রমাগত সাফল্য: এটি এই ব্লকে অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের দ্বিতীয় সফল আবিষ্কার। এর আগে সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে ‘বিজয়াপুরম-২’ কূপে প্রথম গ্যাসের সন্ধান মিলেছিল। অনুসন্ধান করা তিনটি কূপের মধ্যে দুটিতেই হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ।
  • ব্যবহার: আবিষ্কৃত এই প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে পিএনজি (PNG), সিএনজি (CNG), সারের কাঁচামাল, পেট্রোকেমিক্যাল এবং হাইড্রোজেন প্রস্তুত করা সম্ভব।
  • ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের মতে, এই আবিষ্কার নির্দেশ করছে যে আন্দামান অববাহিকা ভবিষ্যতে ভারতের অন্যতম প্রধান হাইড্রোকার্বন উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। গভীর ও অতি-গভীর সমুদ্রের অনুসন্ধান কূপ খননের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি ভাণ্ডারকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এই আবিষ্কার কেবল ভারতের জ্বালানি চাহিদাই মেটাবে না, বরং গভীর সমুদ্রে ভারতের অনুসন্ধান ক্ষমতার ক্ষেত্রে এক নতুন উচ্চতা যোগ করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *