উন্নয়নের গতি কতটা বাড়ল? ১৯৭২ থেকে বর্তমানের মেট্রো প্রকল্পের তুলনামূলক তথ্য দিলেন অশ্বিনী বৈষ্ণব
June 6, 20267:57 pm

চিংড়িঘাটায় মেট্রো প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব যে বক্তব্য রেখেছেন, তা কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণ এবং রাজ্য-কেন্দ্রের রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণকে স্পষ্ট করে তুলেছে। আপনার শেয়ার করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মূল বিষয়গুলো নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো:
রেলমন্ত্রীর সফরের মূল পর্যবেক্ষণ:
- উন্নয়ন আটকে রাখার অভিযোগ: রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, বিগত তৃণমূল সরকার রাজনৈতিক কারণে মেট্রোর মতো জনস্বার্থমূলক প্রকল্পের কাজে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিয়েছিল। বিশেষ করে চিংড়িঘাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মেট্রোর কাজ আটকে রাখার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে জনদুর্ভোগ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
- দ্রুত কাজ সম্পাদনের উদাহরণ: রেলমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ৫ দিন বা ১২০ ঘণ্টার মধ্যে মেট্রো কর্তৃপক্ষ চিংড়িঘাটার আটকে থাকা কাজ সম্পন্ন করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে যানজট পরিস্থিতির ভারসাম্য বজায় রেখেই বড় বড় পরিকাঠামোগত কাজ করা সম্ভব।
- মেট্রোর প্রবৃদ্ধির তুলনামূলক চিত্র: অশ্বিনী বৈষ্ণব মেট্রোর কাজের গতি নিয়ে পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানিয়েছেন, ১৯৭২ থেকে পরবর্তী ৪২ বছরে শহরে মাত্র ২৮ কিলোমিটার মেট্রো পথ তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে, গত ১২ বছরে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে ৪৫ কিলোমিটার মেট্রো প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কলকাতা মেট্রোর প্রতি বিশেষ গুরুত্বের প্রতিফলন।
চিংড়িঘাটা মেট্রো জট ও আইনি লড়াই:
- দীর্ঘসূত্রতা: ইস্টার্ন বাইপাসের অন্যতম ব্যস্ত মোড় হওয়ায় রাস্তা বন্ধের অজুহাতে দিনের পর দিন এই কাজ আটকে ছিল। মামলাটি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল।
- আদালতের অবস্থান: উভয় আদালতই রাজ্য সরকারকে মেট্রোর কাজের জন্য ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, উন্নয়নমূলক কাজ আটকে রাখা যাবে না। তবুও তৎকালীন সরকার সেই নির্দেশের পরিকাঠামো তৈরিতে তৎপরতা দেখায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ:
এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হওয়া এবং রেলমন্ত্রীর পরিদর্শন রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূলের প্রাক্তন মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর মতো নেতাদের একাংশও এই বিষয়টির জন্য পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করেছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে, দলের ভেতরেও এই প্রকল্পের বিলম্ব নিয়ে অসন্তোষ ছিল।