নৈহাটির হাজিনগর জুটমিলে ‘সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক’, কর্মহীন হাজার হাজার শ্রমিক
June 6, 20269:12 pm

নৈহাটির হাজিনগর জুটমিলের এই ‘সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক’ বা কাজ স্থগিতের ঘটনাটি স্থানীয় শ্রমিক ও জুট শিল্পের বর্তমান সংকটের একটি করুণ চিত্র তুলে ধরেছে। ঘটনার মূল দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
- কর্তৃপক্ষের যুক্তি: মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, বাজারে কাঁচা পাটের তীব্র সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় কারখানা চালানো আর্থিকভাবে আর সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই ৬ জুন থেকে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখার নোটিস দেওয়া হয়েছে।
- শ্রমিকদের দাবি: কর্তৃপক্ষের যুক্তি মানতে নারাজ শ্রমিকরা। তাঁদের অভিযোগ, কারখানার ভেতরে এবং বাইরে এখনও পর্যাপ্ত পাট মজুত রয়েছে, যা দিয়ে অন্তত আরও ২০ দিন থেকে ১ মাস উৎপাদন চালানো সম্ভব ছিল। শ্রমিকদের মতে, কাঁচামালের সংকটের অজুহাতে এটি আসলে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।
বর্তমান পরিস্থিতি:
- শ্রমিকদের অনিশ্চয়তা: এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ফলে তাঁদের পরিবারের দৈনন্দিন সংসার চালানো এবং ভবিষ্যতের রুটি-রুজির নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
- তীব্র ক্ষোভ: শনিবার সকালে মিলের মূল ফটকে তালা ও নোটিস দেখার পর শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।
বিশ্লেষণ:
জুট শিল্পে কাঁচা পাটের দুষ্প্রাপ্যতা এবং দাম বৃদ্ধি প্রায়শই উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে তথ্যের যে ফারাক (মজুত পাট থাকা নিয়ে শ্রমিকদের দাবি বনাম কর্তৃপক্ষের সংকটের বয়ান), তা এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। সরকারি স্তরে হস্তক্ষেপ ছাড়া এই অচলাবস্থা কাটানো কঠিন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।