দোকান পিছু ৫ লক্ষ টাকা তোলাবাজি! পুলিশের জালে ‘এলাকার ত্রাস’ তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/06/07/cats-2026-06-07-09-17-13.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল কলকাতা পুলিশ। লাগামছাড়া কাটমানি ও তোলাবাজির অভিযোগে শনিবার রাতে গ্রেফতার হলেন কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের বিতর্কিত তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। তাঁকে পাটুলি থানায় নিয়ে আসা হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। পুলিশের গাড়ি থেকে নামানোর সময় তাঁকে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন উত্তেজিত জনতা। এই ঘটনা এলাকার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ঘনিষ্ঠ নেতার বয়ানেই ফাঁস
বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের গ্রেফতারির প্রধান সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে তাঁরই ঘনিষ্ঠ এবং ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব সভাপতি সৌরভ ঘোষের নাম। এলাকায় ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত সৌরভকে আগেই তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল পাটুলি থানার পুলিশ। পুলিশি জেরার মুখে সৌরভের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্যর খোঁজ পান। বাপ্পাদিত্যর রাজনৈতিক উত্থানও বেশ ঘটনাবহুল। একসময় বিজেপি নেতা তপন শিকদারের অনুগামী থাকলেও, ২০০৬ সালের পর থেকে তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন এবং তাঁকে নিজের ‘গুরু’ বলেও স্বীকার করতেন। ২০১৫ সালে তিনি প্রথম পুরভোটে প্রার্থী হন। এর আগে ২০২৩ সালেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল তদন্তকারী দল।
সিন্ডিকেট রাজ ও সম্ভাব্য প্রভাব
পাটুলির স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরেই ওই এলাকায় তোলাবাজি চলছিল। বিশেষ করে ঝিলপাড় এলাকায় নতুন গজিয়ে ওঠা দোকানগুলিই ছিল এদের প্রধান লক্ষ্য। অভিযোগ, বাপ্পাদিত্য এবং সৌরভ প্রতিটি দোকানদারের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে কাটমানি দাবি করতেন। টাকা না দিলে দোকান খুলতে দেওয়া হতো না, যার ফলে চরম সংকটের মুখে পড়েন সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। শুধু তোলাবাজিই নয়, ভোট-পরবর্তী হিংসা, সিন্ডিকেট রাজ এবং প্রতিবাদীদের ভয় দেখানোর মতো একাধিক মারাত্মক অভিযোগও জমা পড়েছিল এই দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে।
এই জোড়া গ্রেফতারির ফলে পাটুলি এলাকায় দীর্ঘদিনের তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট চক্রের বড়সড় পতন ঘটল। এর ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফেরার পাশাপাশি, এই ঘটনা আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতি এবং ক্ষুদ্র অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এলাকার মানুষ এখন ভয়মুক্ত পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করার আশা দেখছেন।