১৫ ঘণ্টার মেগা ব্লকে স্তব্ধ শিয়ালদহ মেইন লাইন, চরম ভোগান্তিতে দিশেহারা নিত্যযাত্রীরা

১৫ ঘণ্টার মেগা ব্লকে স্তব্ধ শিয়ালদহ মেইন লাইন, চরম ভোগান্তিতে দিশেহারা নিত্যযাত্রীরা

শিয়ালদহ ডিভিশনে জরুরি পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তা জনিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য গৃহীত ১৫ ঘণ্টার মেগা ট্রাফিক ও পাওয়ার ব্লকে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জেরে রবিবার সকাল থেকেই শিয়ালদহ মেইন লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে একাধিক লোকাল ট্রেন, আর যে ট্রেনগুলো কোনোমতে চলছে, সেগুলোও চলছে অনিয়মিত সূচিতে। দমদম ও বিধাননগর স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জংশনগুলোতে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকছে দীর্ঘ সময়, যার ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীদের স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে।

অসহনীয় ভিড় ও তীব্র গরমে নাজেহাল যাত্রীসাধারণ

রবিবার সকাল থেকেই শিয়ালদহমুখী ট্রেনগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। অতিরিক্ত ভিড় আর ভ্যাপসা গরমে কামরাগুলোর ভেতর পরিবেশ রীতিমতো দমবন্ধ করা। ভিড়ের চাপে অনেক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। ক্ষুব্ধ যাত্রীদের অভিযোগ, রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি পূর্বঘোষিত হলেও ট্রেনগুলোর এই চরম অনিয়ম মেনে নেওয়া কঠিন। প্রতিটি স্টেশনে ১৫ থেকে ২০ মিনিট করে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় কর্মব্যস্ত যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। অনেক যাত্রীই অভিযোগ করেছেন, সোদপুর থেকে শিয়ালদহ পৌঁছাতেই তাদের প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে, যা দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করছে।

দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিকের লক্ষ্য রেলের

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিয়ালদহ ও কাঁকুড়গাছি রোড জংশনের মধ্যে ব্রিজ নম্বর ৩-এর জরুরি মেরামতির জন্যই এই দীর্ঘ মেয়াদী ব্লক নেওয়া হয়েছে। শিয়ালদহ ডিভিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে পূর্বেই দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করতে রণকৌশল মেনে একসঙ্গে অনেক কর্মী দিনরাত কাজ করছেন। নির্ধারিত সময়সীমা অর্থাৎ রবিবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের মধ্যেই ব্লক তুলে নিয়ে পরিষেবা স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে রেল প্রশাসন। আশা করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের পর থেকে ট্রেন চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *