তুষ্টিকরণের রাজনীতিতে পিছেয়েছিল বাংলা, সনাতনীদের অনুষ্ঠানে সরব মুখ্যমন্ত্রী

রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে সনাতনীদের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যের উন্নয়ন ও ইতিহাসের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়ন অবহেলিত ছিল। তুষ্টিকরণের নীতিই রাজ্যের অগ্রগতির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলার ইতিহাস ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান
ভাষণ দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী আজকের যুব প্রজন্মের উদ্দেশে পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টির ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, দেশভাগের সময় পূর্ব ভারতকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার যে চক্রান্ত হয়েছিল, তা নস্যাৎ করতে ভারতকেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। ১৯৪৬ সালে তারকেশ্বরে হিন্দু মহা সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলা ভাগ রুখতে এবং এই অংশকে ভারতভুক্ত রাখার যে লড়াই তিনি করেছিলেন, তা বাংলার ইতিহাসে অবিস্মরণীয়। শুভেন্দু বলেন, সেই সময় বাংলার আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়েই পাকিস্তান থেকে পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
পরিবর্তনের হাওয়া ও আগামীর পরিকল্পনা
গত কয়েক বছরের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণে ধর্মীয় উৎসব পালন করা নিয়েও অতীতে নানা বাধার সৃষ্টি হয়েছিল, যার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হতো। সম্প্রতি সিএএ-র বিরোধিতা করে মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় যে বিক্ষোভ হয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তবে এখন পরিস্থিতির বদল ঘটছে বলে দাবি করেন শুভেন্দু।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, রাজ্য সরকার এখন ধর্মীয় তুষ্টিকরণ ছেড়ে বিনিয়োগ ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। শ্রাবণী মেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া এবং গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। রাজ্যের অগ্রগতির জন্য জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে রাজ্য আরও অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের সাক্ষী থাকবে।