ফের অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর! ৩০ লক্ষ টাকার তোলাবাজিতে বাড়ছে অস্বস্তি

গরু পাচার মামলার আইনি জট কাটতে না কাটতেই নতুন বিপাকে পড়লেন বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক পরেই দলীয় কার্যালয় নির্মাণের নামে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুট এবং তোলাবাজির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শান্তিনিকেতন থানায় রুজু হলো নতুন একটি হাই-প্রোফাইল এফআইআর। এই ঘটনায় অনুব্রত মণ্ডলসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ, যা ঘিরে ফের শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।
ইটভাটার মালিকের অভিযোগ ও নেপথ্যের ঘটনা
অভিযোগকারী ইটভাটার মালিক শুভেন্দু বিকাশ মণ্ডলের বয়ান অনুযায়ী, ২০২১ সালের মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই বোলপুরে দলীয় কার্যালয় নির্মাণের জন্য তাঁর ইটভাটা থেকে বিপুল পরিমাণ ইট নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, সেই ইটের মূল্য হিসেবে প্রাপ্য ৩০ লক্ষ টাকা আজও মেটানো হয়নি। শুধু ইট আত্মসাৎই নয়, ওই ব্যবসায়ীর দাবি, অনুব্রত মণ্ডল ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন এবং দফায় দফায় মোটা অঙ্কের তোলাবাজি চালিয়েছেন। তৎকালীন সময়ে অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক প্রতিপত্তি এতটাই প্রবল ছিল যে, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও ন্যায়বিচার পাননি।
বদলাতে থাকা প্রেক্ষাপটে আইনি চাপে কেষ্ট
রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক বাহুবলীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া অবস্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও প্রশাসনের কঠোর মনোভাবের ভরসাতেই ওই ব্যবসায়ী পুনরায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের করার সাহস পেয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তকারী দল এই ঘটনায় কঠোর ও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা নথিভুক্ত করেছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছে। গরু পাচার মামলায় আগে থেকেই আইনি জটিলতায় জর্জরিত অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে এই নতুন ফৌজদারি মামলা যে তাঁর অস্বস্তি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। বীরভূমের একদা দাপুটে এই নেতার ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ওপর এই ঘটনা বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।