চাপে মধ্যবিত্ত, সিলিন্ডার পিছু ৯৪২ টাকা মূল্যেও লোকসানে সরকার! কেন?

দেশে ফের বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম। রবিবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দর অনুযায়ী, ১৪ কিলোগ্রামের প্রতিটি গার্হস্থ্য এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৯ টাকা বাড়িয়ে ৯৪২ টাকা করা হয়েছে। কলকাতায় এই দাম দাঁড়িয়েছে ৯৬৮ টাকা। গত তিন মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বার মূল্যবৃদ্ধি, যা স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজেটে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
কেন বাড়ছে গ্যাসের দাম?
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের চরম অস্থিরতা এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে সৌদি আরবের কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) বেঞ্চমার্ক প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একটি সিলিন্ডার সরবরাহ করার প্রকৃত খরচ ১৬০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইন সংকটের কারণে এই রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের হাতে বিকল্প ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্বের তুলনায় কম দাম, দাবি সরকারের
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে রান্নার গ্যাসের দাম অনেকটাই কম। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল কিংবা বাংলাদেশের তুলনায় ভারতীয় পরিবারগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে গ্যাস ব্যবহার করতে পারছে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলেও ভারতের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নগণ্য। সরকার আরও জানিয়েছে, বর্তমান খুচরো মূল্যে বিক্রি করেও প্রতিটি সিলিন্ডারে তাদের প্রায় ৭০০ টাকা লোকসান বা ‘আন্ডার-রিকভারি’ হচ্ছে। গার্হস্থ্য এলপিজি খাতে এই ক্ষতির পরিমাণ আগের বছরের ৪১,৩৩৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৬০,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। মূলত ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার প্রভাবই সরাসরি সাধারণ গ্রাহকদের পকেটে আঘাত করছে।