পেনশনভোগী প্রবীণরা সাবধান! সঠিক আইটিআর ফর্ম নির্বাচন না করলে হতে পারে বড় বিপদ

পেনশনভোগী প্রবীণরা সাবধান! সঠিক আইটিআর ফর্ম নির্বাচন না করলে হতে পারে বড় বিপদ

আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিল করার ক্ষেত্রে প্রবীণ নাগরিকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। অনেকে মনে করেন, যেহেতু তাঁরা প্রবীণ এবং পেনশন পান, তাই আইটিআর-১ ফর্মই তাঁদের জন্য একমাত্র উপায়। কিন্তু এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। আয়কর বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বয়স নয়, বরং আয়ের উৎস ও প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করেই আইটিআর ফর্ম নির্বাচন করতে হয়। ভুল ফর্ম বেছে নিলে করদাতার রিফান্ড পেতে যেমন দেরি হতে পারে, তেমনি আয়কর দপ্তরের কাছ থেকে নোটিশ পাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। ২০২৬-২৭ মূল্যায়ন বর্ষের জন্য ই-ফাইলিং পোর্টালে ইতিমধ্যে ফর্মগুলি উপলব্ধ করা হয়েছে।

সঠিক ফর্ম নির্বাচনের নিয়মাবলী

সাধারণত যেসব প্রবীণ নাগরিকের বার্ষিক আয় ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এবং আয়ের উৎস প্রধানত পেনশন, বেতন, দুটি গৃহ সম্পত্তি বা সুদ থেকে আসে, তাঁদের জন্য আইটিআর-১ ফর্ম প্রযোজ্য। তবে আয়ের খাত বিস্তৃত হলে ফর্ম বদলে যায়। যদি কারও আয়ের মধ্যে মূলধনী লাভ, বিদেশি সম্পদ, দুটির বেশি গৃহ সম্পত্তি বা পরিচালক পদের মতো বিষয় থাকে, তবে তাঁকে আইটিআর-২ ফর্ম পূরণ করতে হবে। আবার অবসরের পর যারা পরামর্শদাতা বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো পেশাগত কাজ করেন বা ব্যবসা থেকে আয় করেন, তাঁদের জন্য আইটিআর-৩ বা ৪ ফর্ম প্রযোজ্য হতে পারে। মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ার বাজারের লভ্যাংশ বা মূলধনী লাভ থাকলেও আইটিআর-১ ফর্ম ব্যবহার করা যাবে না।

রিটার্ন দাখিলের আগে যা করণীয়

রিটার্ন দাখিল করার আগে প্রতিটি করদাতার ফর্ম ২৬এএস (26AS), বার্ষিক তথ্য বিবরণী (AIS) এবং করদাতা তথ্য সারাংশ (TIS) পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে কেবল এআইএস-এ দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে করদাতারা ভুল করে বসেন। পেনশন, ব্যাঙ্ক এফডি-র সুদ, টিডিএস এবং শেয়ার বিক্রির মতো তথ্যগুলি সঠিকভাবে নথিবদ্ধ হয়েছে কি না, তা ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট ও ফর্ম ১৬-এর সাথে মিলিয়ে দেখা জরুরি। সঠিক তথ্য এবং সঠিক ফর্ম নির্বাচনই আয়কর সংক্রান্ত আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র চাবিকাঠি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *