সন্তান নিচ্ছেন না শিক্ষিতরা, ভারতের জনসংখ্যা হ্রাস নিয়ে সতর্কবার্তা ইলন মাস্কের

ভারতে সন্তান জন্মের হার দ্রুতগতিতে কমে চলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্ক। বর্তমানে দেশটির মোট প্রজনন হার (Total Fertility Rate) ১.৯-এ নেমে এসেছে, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় রিপ্লেসমেন্ট লেভেল ২.১-এর চেয়েও কম। মূলত শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে সন্তান নেওয়ার প্রবণতা কমে যাওয়া এবং ছোট পরিবার গঠনের মানসিকতাই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনসংখ্যার ভারসাম্য ও রিপ্লেসমেন্ট লেভেল
একটি দেশের জনসংখ্যাকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে প্রতি মহিলার গড়ে ২.১ জন সন্তান জন্ম দেওয়া প্রয়োজন, যা রিপ্লেসমেন্ট লেভেল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই হার ২.১-এর নিচে থাকলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি শ্লথ হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তা ঋণাত্মক (Negative Population Growth) হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, নতুন জন্মের সংখ্যা মৃত্যুর তুলনায় কম হতে শুরু করে। ২০২৪ সালের স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (SRS) এবং জাতিসংঘের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত এখন এই জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের এক জটিল পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতার ঝুঁকি বাড়ছে।
অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থায় প্রভাব
প্রজনন হারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা ভারতের ভবিষ্যতের জন্য বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে কর্মক্ষম যুব জনসংখ্যার অনুপাত কমে যাওয়ায় শিল্প, উৎপাদন এবং পরিষেবা খাতে শ্রমিকের ঘাটতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি সমাজে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবা, পেনশন এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে সরকারি ব্যয়ের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হতে পারে। ১৪৬ কোটির অধিক জনসংখ্যা সত্ত্বেও, প্রজনন হার কমে যাওয়ার এই ধারাটি ভারতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর জন্য আগামী দিনগুলোতে উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন জনমিতি বিশেষজ্ঞরা।