হকার উচ্ছেদ ঘিরে উত্তপ্ত যাদবপুর: বুলডোজ়ারের দাপটে ভাঙল দোকান, আটক সৃজন ভট্টাচার্য

হকার উচ্ছেদ ঘিরে উত্তপ্ত যাদবপুর: বুলডোজ়ারের দাপটে ভাঙল দোকান, আটক সৃজন ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: রবিবার গভীর রাতে যাদবপুর স্টেশন চত্বরে রেলের হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। বুলডোজ়ার নামিয়ে একের পর এক বেআইনি দোকান ও নির্মাণ ভাঙার সময় প্রতিবাদী হকার ও বাম-কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধস্তাধস্তি ও লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য-সহ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ এবং আহত হয়েছেন নাট্যকর্মী জয়রাজ ভট্টাচার্য-সহ অনেকে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রতিবাদ:

রবিবার সন্ধ্যা থেকেই যাদবপুরের ২১২ বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া এলাকায় উত্তেজনা ছিল। রেলের তরফে হকার উচ্ছেদের আশঙ্কায় সকাল থেকেই জড়ো হয়েছিলেন স্থানীয় হকার, বাম ও কংগ্রেস কর্মীরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সৃজন ভট্টাচার্য, ঊষসী চক্রবর্তী এবং কংগ্রেস নেতা সৌরভ প্রসাদ। উচ্ছেদ আটকাতে অনেকে বুলডোজ়ারের সামনে শুয়ে পড়েন, কেউ কেউ বুলডোজ়ারের ওপর উঠেও প্রতিবাদ জানান।

কী বলছেন আন্দোলনকারীরা?

  • সৃজন ভট্টাচার্য: আটকের আগে তিনি অভিযোগ করেন, রেল কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ ও আইনকে উপেক্ষা করে এই উচ্ছেদ চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, গত মঙ্গলবার রেলের সঙ্গে আলোচনার সময় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কোর্ট খোলার পর ২১ দিনের মধ্যে পুনর্বাসন সংক্রান্ত আদালতের রায়ের সার্টিফাইড কপি তাঁদের জমা দেওয়া হবে। রেল সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
  • ঊষসী চক্রবর্তী: তিনিও এই উচ্ছেদকে ‘আদালত অবমাননা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, পুনর্বাসন না দিয়ে এভাবে হকার উচ্ছেদ অমানবিক ও বেআইনি।

পুলিশের পদক্ষেপ ও পরিস্থিতি:

ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহিনী, রেল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভের জেরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশি লাঠিচার্জে নাট্যকর্মী জয়রাজ ভট্টাচার্যের মাথা ফেটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে।

প্রেক্ষাপট:

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতেও যাদবপুর স্টেশনে উচ্ছেদের আশঙ্কায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। শুধু যাদবপুর নয়, এর আগে হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরেও একইভাবে প্রায় ৫০০টি ঝুপড়ি ও ছোট দোকান উচ্ছেদ করেছে রেল। হাওড়া ময়দান এলাকাতেও মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীদের ফুটপাতে বসতে নিষেধ করেছে প্রশাসন। রেলের আচমকা এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন কয়েকশো ছোট ব্যবসায়ী।

বর্তমানে পুরো এলাকা পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানের জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *