মমতার আগেই দিল্লি পাড়ি অভিষেকের, তৃণমূলের অন্দরে কি চূড়ান্ত ভাঙনের পূর্বাভাস?

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দলীয় বিদ্রোহের আঁচ এবার জাতীয় রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ছে। দলের অন্দরের ক্রমবর্ধমান এই বিদ্রোহ সামলাতে এবং সংসদীয় দলের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তড়িঘড়ি দিল্লি পাড়ি দিয়েছেন। সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়ার একদিন আগেই তাঁর দিল্লি যাওয়ার সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
সংকট ও বিদ্রোহের বর্তমান পরিস্থিতি:
- বিধানসভায় বিদ্রোহ: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের একটি বড় অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন করেছে। বর্তমানে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রত বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করছেন।
- সংসদীয় দলের অবস্থা: বিদ্রোহী বিধায়কদের মতো একইভাবে সংসদীয় দলের সাংসদদের মধ্যেও অসন্তোষ দানা বাঁধছে। জানা যাচ্ছে, অনেক সাংসদই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে অনুপস্থিত থাকছেন। প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ও দলের অভ্যন্তরীণ এই বিপদের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন।
- স্বৈরাচারের অভিযোগ: বিদ্রোহী বিধায়ক সন্দীপন সাহা সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘স্বৈরাচারী’ মনোভাবের কারণেই দলের এই দশা। তাঁর দাবি, বিধানসভার মতো একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি লোকসভা ও রাজ্যসভার সংসদীয় দলেও ঘটতে পারে।
তৃণমূলের অংকের সমীকরণ:
লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমানে ২৮ জন সদস্য রয়েছেন। দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, নতুন কোনো গোষ্ঠী তৈরি করতে হলে অন্তত ১৯ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। সূত্রের খবর, বিদ্রোহী নেতারা শুক্রবার রাত থেকেই সাংসদদের সাথে ফোনে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন, যা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিষেকের দিল্লি সফর ও আইনি জটিলতা:
তৃণমূল সুপ্রিমো নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিষেককে একদিন আগে দিল্লিতে পাঠিয়েছেন। তবে এই সফরের টাইমিং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সোমবার বিধানসভায় ‘সই কেলেঙ্কারি’ সংক্রান্ত একটি মামলায় সিআইডি-র সামনে অভিষেকের হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে ৮ জুনের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে। একদিকে দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন রোখা, অন্যদিকে সিআইডি-র তলব—সব মিলিয়ে এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন অভিষেক।
দলের অবস্থান:
যদিও এই বিদ্রোহের খবরকে অতিরঞ্জিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর মতে, বিধানসভার মতোই বিজেপি লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যদের মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আস্থা রেখে তিনি দাবি করেছেন, দলীয় নেতৃত্ব এই সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।
এখন দেখার বিষয়, দিল্লি পৌঁছে সাংসদদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং বিদ্রোহ সামলাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কতটা সফল হন, কারণ তৃণমূলের সংসদীয় দলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এখন তুঙ্গে।