বিধায়কদেরও রেয়াত নয়! তৃণমূলী সংস্কৃতি রুখতে কড়া শমীক, সাসপেন্ড ৩ নেতা

বিধায়কদেরও রেয়াত নয়! তৃণমূলী সংস্কৃতি রুখতে কড়া শমীক, সাসপেন্ড ৩ নেতা

দলের অন্দরে কোনওরকম অনৈতিক কাজ বা ‘তৃণমূলী সংস্কৃতি’ বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই হুঁশিয়ারির পরই দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে উত্তর শহরতলি ও দমদম এলাকার তিন বিজেপি নেতাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করল রাজ্য বিজেপি।

তৃণমূলী সংস্কৃতি রুখতে কড়া অবস্থান

রবিবার দলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট জানান, পার্টি অফিস দখল, তোলাবাজি, জমি বা বাড়ি দখল এবং শিল্পপতিদের বিরক্ত করার মতো ঘটনা ঘটলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। এই বিষয়ে দলের বিধায়কদেরও কড়া ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, দলবিরোধী কাজে যুক্ত থাকলে ৫-৭ জন বিধায়ককে দল থেকে বের করে দিলেও দলের কোনও ক্ষতি হবে না। বিরোধী দলের জয়ী বিধায়কদের বাড়ির সামনে গিয়ে স্বঘোষিত নেতাদের অতি-উচ্ছ্বাস প্রকাশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। রাজ্য সভাপতির এই কড়া অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল।

শাস্তির খাঁড়া ও সম্ভাব্য প্রভাব

দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সুপারিশে সাসপেন্ড হওয়া তিন নেতা হলেন নিউ ব্যারাকপুর ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি তিতু সরকার, সহ-সভাপতি তীর্থ মিত্র এবং উত্তর শহরতলি সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক নিত্য মিত্র। মূলত নির্বাচনের পর থেকে দলের অন্দরে সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দলীয় কর্মীদের মারধরের কারণেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কোন্দল কড়া হাতে দমন করা। এই সাসপেনশনের মাধ্যমে রাজ্য নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিল যে, দলের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় শীর্ষ নেতৃত্ব চরম কঠোর। এর ফলে আগামী দিনে দলের অভ্যন্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হ্রাস পাবে এবং নেতা-কর্মীদের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও সতর্কতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *