অষ্টম বেতন কমিশনে কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের মূল বেতন একলাফে ৬৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা!

অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (সিপিসি) গঠন এবং এর সম্ভাব্য ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি কেন্দ্র সরকার এই কমিশন ঘোষণা করে, যা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর বলে গণ্য করা হয়েছে। মূলত নতুন বেতন কাঠামোর অধীনে বিদ্যমান মূল বেতন কত গুণ বৃদ্ধি পাবে, তা নির্ধারণ করে এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের জোরদার দাবির মুখে এবার ন্যূনতম মূল বেতন বর্তমানের ১৮,০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ ৬৮,৯৪০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে বিভিন্ন সমীকরণে দেখা যাচ্ছে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের সমীকরণ ও বেতন বৃদ্ধির নানা হিসাব
বর্তমানে বিভিন্ন কর্মচারী ও পেনশনভোগী সংগঠন সরকারের কাছে ১.৯২ থেকে শুরু করে ৩.৮৩ পর্যন্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল কাউন্সিল-জেসিএম সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি তুলেছে। এই দাবিটি যদি সরকার মেনে নেয়, তবে কর্মচারীদের ন্যূনতম মূল বেতন একলাফে প্রায় ২৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮,৯৪০ টাকা হবে। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস ৩.০ এবং ন্যাশনাল পেনশনিয়ার্স অর্গানাইজেশন ৩.২৫ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের প্রস্তাব দিয়েছে, যার ফলে নতুন মূল বেতন হতে পারে যথাক্রমে ৫৪,০০০ টাকা ও ৫৮,৫০০ টাকা। তবে প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষ চন্দ্র গার্গের মতে, সরকার ১.৯২ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুমোদন করতে পারে, যার ফলে নতুন মূল বেতন দাঁড়াবে ৩৪,৫৬০ টাকা। এর বাইরে ২.৫৭, ২.৮৬ বা ৩.৬৮ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারিত হলেও মূল বেতন যথাক্রমে ৪৬,২৬০ টাকা, ৫১,৪৮০ টাকা বা ৬৬,২৪০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ভাতা সংশোধন ও বাস্তবায়নের সম্ভাব্য প্রভাব
অষ্টম বেতন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু মূল বেতনই নয়, সামগ্রিক বেতন কাঠামোতেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এর প্রভাবে বাড়ি ভাড়া ভাতা (এইচআরএ) এবং পরিবহন ভাতাও (টিএ) নতুন করে পর্যালোচনা করা হতে পারে। একই সাথে বর্তমানের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মূল বেতনের সাথে যুক্ত করে সম্পূর্ণ নতুনভাবে হিসাব শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বর্ধিত বেতনের প্রকৃত সুফল পেতে কর্মচারীদের আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। আগামী ১৫ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত পরামর্শ ও স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। কমিশনকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে, কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কর্তৃক তা অনুমোদিত হওয়ার পর, বেতন সংশোধনের প্রকৃত সুবিধা ২০২৭ সালের মাঝামাঝি বা ২০২৮ সালের শুরুতে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সরকারের অনুমোদিত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ওপরই নির্ভর করছে।