স্বাস্থ্যসাথী অতীত, এবার আয়ুষ্মান ভারতের ছাতায় পশ্চিমবঙ্গ!

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকারের ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’-য় শামিল হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। সোমবার নতুন দিল্লির বুকে ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি (এনএইচএ)-র সঙ্গে এই বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক বা মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা। দেশের ৩৬তম রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে এই জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষার তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলা।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও পটপরিবর্তন
২০১৮ সালে মোদী সরকার দেশজুড়ে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করলেও, তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আপত্তির কারণে বিগত আট বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। পূর্বতন সরকার কেন্দ্রের এই প্রকল্পের বদলে রাজ্যে নিজস্ব ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প চালু রেখেছিল, যা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদে রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়। তবে রাজ্যে শাসনক্ষমতার পরিবর্তনের পর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভা তাদের প্রথম বৈঠকেই এই জট কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতার অভাব দূর করে রাজ্যবাসীকে জাতীয় স্তরের স্বাস্থ্য সুবিধা দেওয়াই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের মূল কারণ।
প্রকল্পের প্রভাব ও জনমানসে সুবিধা
এই সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্তিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে। রাজ্যের প্রায় ৬ কোটি মানুষ, যারা এতদিন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের আওতায় ছিলেন, তাঁদের সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি নতুন উপভোক্তাদের জন্যও আবেদনের পথ উন্মুক্ত করা হচ্ছে। এই রূপান্তরের ফলে বাংলার রোগীরা কেবল নিজ রাজ্যেই নয়, দেশের যেকোনো প্রান্তের তালিকাভুক্ত হাসপাতালে বিনামূল্যে উন্নত মানের চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, এই পদক্ষেপ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ যোগ্য পরিবারকে চিকিৎসা খরচের মস্ত বড় আর্থিক বোঝা থেকে মুক্তি দেবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।