পুলিশে এবার নজিরবিহীন রদবদল, ডায়মন্ড হারবারসহ ১৭৯ আইপিএসকে একযোগে বদলি

রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন ও বড়সড় পরিবর্তন আনা হলো। এবার পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল ঘটিয়ে একসঙ্গে ১৭৯ জন আইপিএস (IPS) অফিসারকে বদলি করল রাজ্য সরকার। প্রশাসনের শীর্ষস্তরের এই বড় সিদ্ধান্তের জেরে ডায়মন্ড হারবারসহ রাজ্যের ১২টি জেলার পুলিশ সুপারকে (SP) একযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে প্রশাসনিক পালাবদলের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মজবুত করতে এবং পুলিশি কাঠামো পুনর্গঠনে সরকারের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তৃণমূল জমানায় যেসব পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও নানারকম প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার খোদ পুলিশ প্রশাসনের অন্দরে এই বিশাল রদবদল করা হলো। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডায়মন্ড হারবার ছাড়াও বীরভূম, জলপাইগুড়ি এবং পুরুলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলির পুলিশ সুপারদের দায়িত্বেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
কারা পেলেন নতুন দায়িত্ব
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বীরভূমের পুলিশ সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদবকে বদলি করে কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি (অ্যাডমিন) পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, বেশ কয়েকজন অফিসারের কাজের পরিধি বৃদ্ধি ও পদোন্নতিও হয়েছে এই তালিকায়। জলপাইগুড়ির এসপি অমরনাথ কে-এর পদোন্নতি ঘটিয়ে তাঁকে উত্তরবঙ্গের ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর (IB) ডিআইজি পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারিরও কার্যভার বাড়ছে, তাঁকে কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি (আর্মড পুলিশ) পদে স্থলাভিষিক্ত করা হচ্ছে।
বদলি ও পরিবর্তনের নেপথ্য কারণ
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক স্তরে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এই ঢালাও বদলির প্রধান কারণ। পূর্বতন সরকারের ঘনিষ্ঠ বা বিতর্কিত ভাবমূর্তির অফিসারদের সরিয়ে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও আরও বেশি সক্রিয় করে তুলতে চাইছে বর্তমান শাসকদল। বিশেষ করে স্পর্শকাতর জেলাগুলিতে নতুন অফিসারদের দায়িত্ব দিয়ে পুলিশি নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।
একযোগে এত বিপুল সংখ্যক আইপিএস অফিসারের বদলি রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল। এই পরিবর্তনের ফলে জেলা স্তরের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে পুলিশ আরও বেশি তৎপর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কলকাতা পুলিশ থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের গোয়েন্দা বিভাগ— সর্বত্র নতুন আধিকারিকদের আগমনে সামগ্রিক পুলিশি কার্যকলাপে এক নতুন গতি আসবে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা নেবে।