মমতার হাত ছাড়ছেন ববি, সন্দীপনকে সঙ্গে নিয়ে বিরোধী দলনেতার ঘরে ফিরহাদ!

মমতার হাত ছাড়ছেন ববি, সন্দীপনকে সঙ্গে নিয়ে বিরোধী দলনেতার ঘরে ফিরহাদ!

তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা এবার আরও তীব্র হলো। ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবির পর যখন দিল্লিতে সংসদীয় দল ভাঙনের মুখে, ঠিক তখনই কলকাতায় শাসক শিবিরে বড়সড় ধাক্কা। সোমবার দুপুরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে হাজির হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও দক্ষ সংগঠক ফিরহাদ হাকিম। সঙ্গে ছিলেন ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের অন্যতম বিধায়ক সন্দীপন সাহা। দলীয় সূত্রে খবর, বন্ধ ঘরের এই বৈঠকে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে তাঁদের মধ্যে। তবে রাজনৈতিক এই সংবেদনশীল বৈঠক নিয়ে ফিরহাদ হাকিম কিংবা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়—কোনো পক্ষই এখনো মুখ খোলেননি।

দূরত্বের সূত্রপাত ও ক্ষোভের নেপথ্যে

দীর্ঘ আট বছর দক্ষতার সঙ্গে কলকাতার মেয়র পদ সামলানোর পর গত শুক্রবারই ইস্তফা দেন ফিরহাদ। পদ ছাড়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে আক্ষেপের সুরে তিনি নিজেকে “ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার” বলে উল্লেখ করেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দলের প্রতি অনুগত থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার অলিন্দে গুরুত্ব কমে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন ববি হাকিম। এর আগে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ এবং চায়ের আমন্ত্রণের পর থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে ববির দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। শুক্রবার কালীঘাটের বৈঠকে যোগ দিলেও মাত্র তিন দিনের মাথায় তাঁর এই পদক্ষেপ সেই দূরত্বকেই স্পষ্ট করে দিল।

তৃণমূলে বড়সড় ভাঙনের আশঙ্কা

দলের দুঃসময়েও যিনি রাজপথে নেমে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন, সেই ফিরহাদ হাকিমের এই ‘ভোলবদল’ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। বিধানসভায় এই মুহূর্তে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর শিবিরে রয়েছেন ৫৮ জন বিধায়ক। এই পরিস্থিতিতে ফিরহাদ এবং সন্দীপনের মতো হেভিওয়েট নেতারা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে শিবির বদল করেন, তবে শাসক দল বিধানসভায় চরম সংকটে পড়বে। ববির মতো দক্ষ সংগঠকের প্রস্থান তৃণমূলের সংগঠনে চূড়ান্ত ধস নামাতে পারে, যা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরের ক্ষমতা বৃদ্ধির পথকে আরও প্রশস্ত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *