বাংলার কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ২০০০ টাকা! বড় উপহার দেবেন মোদী, ঘোষণা CM শুভেন্দুর

বাংলার কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ২০০০ টাকা! বড় উপহার দেবেন মোদী, ঘোষণা CM শুভেন্দুর

ক্ষোভের আগুনে উত্তাল ধুলিয়ান, কাটমানি ও আবাস দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়ি ঘেরাও

ধুলিয়ান পুরসভায় আবাস যোজনার দুর্নীতি ও কাটমানি চক্রের অভিযোগে গণরোষের আগুন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। একের পর এক কাউন্সিলরের বাড়ি ঘেরাওয়ের ঘটনায় ধুলিয়ান পুরসভা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রবিবার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঘটনার পর, সোমবার সকাল থেকেই ধুলিয়ান পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুষমা সরকার এবং তাঁর স্বামী তথা তৃণমূল নেতা দিলীপ সরকারের বাড়ি ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। লাঠি, ঝাঁটা ও জুতো হাতে ক্ষুব্ধ জনতার ‘চোর চোর’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

নথিপত্র কুক্ষিগত করার অভিযোগ ও নজিরবিহীন বিক্ষোভ

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকাল হতেই ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ মানুষজন কাউন্সিলর দম্পতির বাড়ির সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে কাউন্সিলরের বাড়ি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং মূল ফটকের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষুব্ধ জনতার অভিযোগ, আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে গরিব মানুষের ব্যাঙ্ক পাসবুক, চেকবুক এবং এটিএম কার্ড নিজেদের কব্জায় কুক্ষিগত করে রেখেছেন কাউন্সিলর দম্পতি। উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলেই সেই টাকা বেআইনিভাবে তুলে নেওয়ার ছক কষা হয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে সাধারণ মানুষের সমস্ত চেকবুক ও পাসবুক ফেরত দিতে হবে এবং কাটমানিখোরদের বাদ দিয়ে প্রকৃত উপভোক্তাদের আসল তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

দুর্নীতির কারণ ও প্রশাসনের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

এই গণবিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটেছিল রবিবার ধুলিয়ানের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে পুলিশ গিয়ে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে প্রচুর পরিমাণে সাধারণ মানুষের পাসবুক, চেকবুক এবং এটিএম কার্ড উদ্ধার করে এবং রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে একই চিত্র দেখা গেল।

বিশ্লেষকদের মতে, আবাস যোজনায় নিচুতলার জনপ্রতিনিধিদের একাংশের এই আর্থিক অনিয়ম ও সাধারণ মানুষের নথিপত্র আটকে রাখার প্রবণতাই এই গণবিদ্রোহের প্রধান কারণ। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে ধুলিয়ান পুর এলাকায় শাসকদলের ভাবমূর্তি যেমন বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে, তেমনই পুরপ্রশাসনের স্বাভাবিক কাজকর্ম স্তব্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিচুতলার এই গণবিক্ষোভ ধুলিয়ানে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কঙ্কাল রূপটিকেই প্রকাশ করে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *