প্রতিবেশীদের চাপ মোকাবিলায় দুই বছরে ১৯০-এ পৌঁছাল ভারতের পরমাণু অস্ত্র!

আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর দিক থেকে তৈরি হওয়া উদ্বেগের কারণে নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক পরমাণু নজরদারি সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপআরআই) সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত দুই বছরে ভারতের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা ১৮০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৯০-এ দাঁড়িয়েছে। মূলত ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলা চীন ও পাকিস্তানের সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা বলয়কে নিশ্ছিদ্র করার লক্ষ্যেই ভারত এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ ও কৌশলগত প্রভাব
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে ভারত বর্তমানে ভূমি, জল ও আকাশ—এই তিন ক্ষেত্র থেকেই পরমাণু অস্ত্র নিক্ষেপের পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করেছে। দেশের সামরিক আধুনিকীকরণের পথে সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে এমআইআরভি (MIRV) প্রযুক্তি। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে একটিমাত্র ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে আলাদা আলাদা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড দিয়ে নিখুঁত আঘাত হানা সম্ভব। এছাড়া ভারতের অস্ত্রভাণ্ডারে অগ্নি-৫ এবং অগ্নি-পি-এর মতো দূরপাল্লার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তর্ভুক্তি দেশের প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে অস্ত্র সংখ্যা ও প্রযুক্তির এই আধুনিকীকরণ ঘটলেও ভারত তার দীর্ঘদিনের পরমাণু নীতি অনুযায়ী ‘প্রথমে ব্যবহার নয়’ (নো ফার্স্ট ইউজ) অবস্থানেই অনড় রয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চে ভারতের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়।
বিশ্বমঞ্চে পরমাণু অস্ত্রের সমীকরণ
আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে পরমাণু অস্ত্রের দৌড়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে রাশিয়া। দেশটির অস্ত্রভাণ্ডারে রয়েছে সর্বমোট ৫,৪২০টি পরমাণু অস্ত্র। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আমেরিকার কাছে রয়েছে ৫,০৪২টি অস্ত্র। বিশ্বমঞ্চের অন্যান্য শক্তিধর দেশের মধ্যে চীনের কাছে ৬২০টি, ফ্রান্সের ৩৭০টি এবং ব্রিটেনের কাছে ২২৫টি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের কাছে রয়েছে ১৭০টি অস্ত্র। এছাড়া ইসরায়েলের ৯০টি এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ৬০টি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। এই বৈশ্বিক তালিকায় ১৯০টি পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ভারত ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেশীদের তুলনায় সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখার এই ভারতীয় প্রয়াস আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।