দিল্লিতেও বড় ধাক্কা খেলেন মমতা, হাতছাড়া হচ্ছে তৃণমূলের সদর দফতর!

জাতীয় রাজনীতিতে একের পর এক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে ঘাসফুল শিবির। সংসদীয় দলে ভাঙনের পর এবার খোদ রাজধানী দিল্লিতেই সদর দফতর হারাতে চলেছে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। মাত্র কয়েক মাস আগে ২০ নম্বর ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে যে কার্যালয় চালু করা হয়েছিল, এবার সেই ঠিকানাই হাতছাড়া হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের।
বাড়ি ছাড়ার কারণ ও আসবাবপত্র স্থানান্তর
তৃণমূলের এই কার্যালয়টি মূলত সাংসদ পার্থ ভৌমিকের নামে বরাদ্দ করা একটি আবাসন ছিল। এতদিন তিনি দলীয় কাজের জন্য বাড়িটি ব্যবহারের সুযোগ দিলেও, সম্প্রতি তিনি তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে এনডিএ শিবিরে যোগ দিয়েছেন। সূত্রের খবর, দলত্যাগের পর ইতিমধ্যেই তিনি নিজের নামে বরাদ্দ করা বাড়িটি ফেরত চেয়েছেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তৃণমূল নেতৃত্ব আগেভাগেই ওই কার্যালয়ের ভেতর থেকে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরানো শুরু করেছে। ফলে দিল্লির রাজনীতিতে আপাতত ঠিকানাহীন হয়ে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলে ভাঙন ও সর্বভারতীয় রাজনীতিতে প্রভাব
গত ৩ জুন থেকে তৃণমূলে যে আনুষ্ঠানিক ভাঙনের সূচনা হয়েছিল, এই ঘটনা তারই একটি সরাসরি প্রভাব। বিধানসভা হাতছাড়া হওয়ার পর লোকসভাতেও দলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার রাতে গোপন বৈঠক এবং সোমবার দুপুরে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকের পর তৃণমূলের বেশিরভাগ সাংসদই এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যার ফলে মমতার হাতে অবশিষ্ট রয়েছেন মাত্র ৮ জন সাংসদ। সংসদীয় দলের এই ব্যাপক ভাঙন এবং দিল্লিতে দলীয় সদর দফতর হারানোর ফলে সর্বভারতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভিত্তি ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।