সিনেমার শরীরসর্বস্বতা ও ট্রোলিং কালচার! পেড্ডি বিতর্কে কঙ্গনার বিস্ফোরক মন্তব্য

দক্ষিণী সুপারস্টার রাম চরণের আসন্ন ছবি ‘পেড্ডি’ ঘিরে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ছবিতে জাহ্নবী কাপুরের চরিত্র ‘অচিয়ম্মা’-র কিছু দৃশ্য সোশাল মিডিয়ায় ফাঁস হওয়ার পর থেকেই দর্শকের একাংশ অভিনেত্রীর শরীর ও অঙ্গভঙ্গি নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলে। অতিরিক্ত যৌনতা প্রদর্শন এবং নারীদের পণ্য হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগে সরব হন নেটিজেনরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরিচালক বুচি বাবু সানা ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বিতর্কিত দৃশ্যগুলো ছবি থেকে ছেঁটে ফেলার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই ঘটনা বিনোদন দুনিয়ায় নারীদের উপস্থাপন এবং সেন্সরশিপের নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সিনেমায় নারী অবজেক্ট নাকি শিল্পের অংশ?
এই বিতর্কের মাঝেই রুপোলি পর্দায় নারীদেহের হাইপার-সেক্সুয়ালাইজেশন বা অতিরিক্ত যৌনতার প্রদর্শন নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, নারীদের পণ্য বানানোর এই প্রবণতা শুধুমাত্র সিনেমা বা বিনোদন জগতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিদ্যমান। লোকাল বাস, ট্রেন কিংবা রাস্তাঘাটে নারীদের হেনস্থার শিকার হওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি জানান, শুধুমাত্র সিনেমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কোনো কাজের কথা নয়। তবে একই সঙ্গে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে বলিউড অতীতে বহুবার নারীদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করেছে এবং আকর্ষণ ও অশ্লীলতার মধ্যকার সূক্ষ্ম রেখাটি অনেক সময়ই সজ্ঞানে বা অজ্ঞানে মুছে ফেলা হয়েছে।
উগ্র ট্রোলিং ও অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার ক্ষতি
বর্তমান সমাজের উগ্র ট্রোলিং সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেছেন কঙ্গনা। তিনি মনে করেন, আজকাল কোনো গল্পের প্রেক্ষাপট বা গভীরতা না বুঝেই সমাজমাধ্যমে নির্মম ট্রোলিং শুরু হয়ে যায়। গল্পের প্রয়োজনে কামুকতা বা যৌনতার প্রদর্শন থাকতেই পারে এবং তা চলচ্চিত্রের শিল্পেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সিনেমা কোনো গবেষণার বিষয় নয়, মানুষ এখানে মূলত বিনোদনের জন্যই আসেন। দর্শকের অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা এবং পক্ষপাতদুষ্ট ট্রোলিং সুস্থ বিনোদন ও শিল্পের স্বাভাবিক বিকাশের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনছে বলে তিনি মনে করেন।