মহিলাদের অজান্তেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কোটি টাকা লোপাট, ডোমকলে গ্রেফতার ৩ মাথা!

মুর্শিদাবাদের ডোমকলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক বিরাট জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। মহিলাদের অজান্তেই তাঁদের নামে ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত আলী খুররম ওরফে নিউটন, সার্জেন শেখ এবং মিজানুর রহমানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল ব্যাঙ্ক নথিপত্র, এটিএম কার্ড ও আধার কার্ড উদ্ধার হয়েছে। রঘুনাথগঞ্জের পর ডোমকলে এমন চক্রের সন্ধান মেলায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কীভাবে চলত এই জালিয়াতি
তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রত্যন্ত এলাকার সহজ-সরল মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফর্ম পূরণ বা আধার কার্ড আপডেটের নাম করে নথিপত্র সংগ্রহ করত এই চক্রটি। এরপর সেই নথি ব্যবহার করে মহিলাদের অজান্তেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হত এবং সেখানে নিজেদের মোবাইল নম্বর যুক্ত করে দেওয়া হত। ফলে অ্যাকাউন্টে সরকারি প্রকল্পের টাকা ঢুকলেও প্রকৃত প্রাপকরা তা জানতে পারতেন না এবং সুকৌশলে সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিত প্রতারকরা। সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্টগুলির বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, প্রতারিত মহিলারা ওই ব্যাঙ্কগুলিতে কখনও অ্যাকাউন্ট খুলতেই যাননি।
বৃহত্তর চক্রের যোগসাজশের আশঙ্কা ও প্রভাব
এই ঘটনার জেরে সরকারি প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এত নিখুঁতভাবে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করা এবং সরকারি পোর্টালের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া শুধুমাত্র এই তিন যুবকের পক্ষে সম্ভব নয়। এর নেপথ্যে ব্যাঙ্কের ভেতরের কোনো অসাধু কর্মী বা আরও বড় কোনো প্রভাবশালী চক্র জড়িত থাকতে পারে। প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং চক্রের মূল চাঁইদের ধরতে ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।